বাছাইয়ে স্বামী-স্ত্রী বাদ পড়লেও টিকে আছেন মা-ছেলে 

গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে যাচাই-বাছাইয়ে ১৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ ছাড়া বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে ৩৫ প্রার্থীর মনোনয়ন।

এতে বাদ পড়েছেন গাইবান্ধা-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ সারোয়ার কবীর ও তার স্ত্রী মাসুমা আক্তার। সমর্থন ভোটার তালিকায় গরমিলের অভিযোগে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তবে একই আসনে টিকে আছেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) জিয়া জামান খান প্রিন্স এবং গাইবান্ধা-১ আসনে তার মা মর্জিনা বেগম।

জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ সারোয়ার কবীর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে সম্প্রতি পদত্যাগ করেন।

এ ছাড়া মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে গাইবান্ধা-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগারের। তবে তার মা আওয়ামী লীগ মনোনীত আফরুজা বারীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

অপরদিকে, মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ায় ভোটের মাঠে লড়ছেন এনপিপি থেকে অংশ নেওয়া মা ও ছেলে। এর মধ্যে মা মর্জিনা বেগম গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে ও ছেলে জিয়া জামান খান প্রিন্স গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে প্রার্থী হয়েছেন। এর আগেও জিয়া জামান খান আসন দুটিতে আম প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে তার মা মর্জিনা বেগম এবারেই প্রথম নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিন সোমবার (৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার দিকে রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসুল বৈধ ও বাতিল প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।

মনোনয়নপত্র বাদ পড়া ১৭ জনের মধ্যে অপর ১৪ প্রার্থী হলেন গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে খেলাফত আন্দোলনের হাফিজার রহমান সরদার, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তফা মহসিন, এবিএম মিজানুর রহমান ও গণফ্রন্টের শরিফুল ইসলাম।

গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে স্বামী-স্ত্রী ছাড়া কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আবু তাহের সায়াদ চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম ও সাজেদুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে জাসদের খাদেমুল ইসলাম খুদি ও স্বতন্ত্র আবু জাফর তৈয়বের।

গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে তিন জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হলেন এনপিপির রুমি আকরাম, স্বতন্ত্র জাহাঙ্গীর হোসেন ও শ্যামলেন্দু মোহন রায়।

গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ফারজানা রাব্বী বুবলি ও স্বতন্ত্র এইচ এম এরশাদের।

তবে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন অফিসার মো. আব্দুল মোত্তালিব।