তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘জাতীয় পার্টিকে ধন্যবাদ জানাই তারা ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করার জন্য এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে। অপরাজনীতির বিরুদ্ধে আমাদের মিত্র হিসেবে কাজ করছে জাতীয় পার্টি। এই নির্বাচনেও তারা আমাদের সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করছে।’
বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে রংপুর নগরীর জেলা পরিষদ কমিউনিটি অডিটরিয়ামে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘২০০৮ সালে জাতীয় পার্টি মহাজোটগতভাবে আমাদের সঙ্গে নির্বাচন করেছে। ২০১৪ এবং ১৮ সালেও তাদের সঙ্গে আমাদের সমঝোতা হয়েছিল। এখনও তাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। তবে নির্বাচনকে প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে। তবে জাতীয় পার্টি ছাড়াও অনেকের সঙ্গে আমাদের স্ট্রাটেজিক অ্যালায়েন্স হতে পারে।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে দল থেকে যাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে অবশ্যই দলীয় প্রার্থীর পক্ষে আমরা কাজ করবো। এবার অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। প্রতিটি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকে। এবার একটু বেশি হয়েছে। প্রার্থী বেশি হওয়ায় নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। তাই বলে স্বতন্ত্র প্রার্থী বা যেকোনও প্রার্থী গন্ডগোল করলে নির্বাচন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’
তিনি বলেন, ‘বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। তারা ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল। ভোট প্রতিহত করার কথাও বলেছিল। এরপরেও প্রত্যেকটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৫০ শতাংশের বেশি ভোটার উপস্থিতি ছিল। ওই নির্বাচন বিএনপির প্রতিহত করার ঘোষণার পরেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জনগণ অংশগ্রহণ করেছিল। শুধু বরিশালে ঘুষি মারার ঘটনা ছাড়া। পশ্চিম বাংলার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কয়েক হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে। আমাদের এখানে একটি ঘুষি মারা ছাড়া কোনও কিছু হয়নি।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সুশীল সমাজ, নিরাপত্তা বিশ্লেষকসহ নানান ধরনের বিশ্লেষক আছেন। রাত ১২টার পর তাদের দেখা যায় না। তারা সেসময় নানান ধরনের বক্তব্য-বিশ্লেষণসহ বিবৃতি দিয়েছেন। এখন যে মানুষ পুড়িয়ে মারা হচ্ছে তারা এখন কোথায়। এখন তো তাদের কোনও বিবৃতি দিতে দেখি না। এটা খুব দুঃখজনক।’ তারা এখন কোথায় হারিয়ে গেলো, প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কার্যকরী সদস্য হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, সফুরা খাতুনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে রংপুর বিভাগের ৮ জেলা-উপজেলার সভাপতি-সম্পাদক ও ৩৩টি আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।