কুড়িগ্রামের উলিপুরের বজরা ইউনিয়নে তিস্তায় নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের সন্ধানে চলা উদ্ধার অভিযান তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। শুক্রবার (২১ জুন) সকালে তিস্তায় আবারও অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। এ দিন সকাল পর্যন্ত নিখোঁজ ছয় যাত্রীর সন্ধান মেলেনি। তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন স্বজন ও উদ্ধারকর্মীরা।
উলিপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিসের সাব অফিসার মো. আব্বাস আলী জানান, শুক্রবার তৃতীয় ও শেষ দিনের উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। দুই জন ডুবুরি ও তাদের এক সহযোগী এবং ফায়ার সার্ভিসের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বশীলরা নদী তীরে উপস্থিত রয়েছেন। তবে নদী অশান্ত থাকায় উদ্ধার কাজে প্রতিকূলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ঘটনার তিন দিনেও নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা আল্লাহ ভালো জানেন। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। নদীতে তীব্র স্রোতে থাকায় ডুবুরিরা ঠিকভাবে কাজ করতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।’ শুক্রবার অভিযানের সমাপ্তি টানা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, নৌকাডুবির ঘটনায় এক দম্পতি ও তাদের এক সন্তানসহ ছয় যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে। তীব্র স্রোতে অশান্ত তিস্তায় বৃহস্পতিবার দিনভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ যাত্রীদের কারও সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অভিযান স্থগিত করে শুক্রবার সকালে আবারও শুরু হয়।
নিখোঁজ যাত্রী আনিছুর রহমানের বাবার বরাতে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আতাউর রহমান জানান, আনিছুরের বাবা তার ছেলে, পুত্রবধূ এবং নাতনির নৌকায় থাকা ও নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিখোঁজ অপর তিন যাত্রীও শিশু বলে স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে।
ইউএনও বলেন, ‘নদী অশান্ত। প্রতিকূলতার মধ্যে ডুবুরি দল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘটনাস্থলের ভাটিতে চিলমারী ও সুন্দরগঞ্জ এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে আমরা নজরদারি রেখেছি। এ ছাড়াও হরিপুর সেতুর কাছেও টিম রাখা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবারও উদ্ধার অভিযান চলবে।’
এর আগে বুধবার (১৯ জুন) সন্ধ্যার দিকে উলিপুরের বজরা ইউনিয়নের খামারদামার হাট এলাকার মাঝের চরের কাছে তিস্তা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। নৌকায় নারী ও শিশুসহ ২৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে উদ্ধার যাত্রীদের দেওয়া তথ্য থেকে জানা গেছে। উলিপুরের বজরা পুরান বাজার এলাকা থেকে তারা তিস্তা নৌপথে রংপুরের পীরগাছা এলাকার পাওটানা গাবুরারচর গ্রামে ফিরছিলেন। এ সময় বজরা ইউনিয়নের খামারদামার হাট মাঝের চরের কাছে নৌকাটি ডুবে যায়।
বুধবার রাতেই ১৮ জনকে জীবিত এবং আয়শা নামে দেড় বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ছয় জন।