বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমাবেশে যোগদান করতে বাধা প্রদান, পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ, গুলিবর্ষণসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) বিকালে তাদের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পুলিশের মাধ্যমে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী থানার ওসি মতিউর রহমান।
তিনি জানান, সর্বশেষ যে রাজনৈতিক মামলা থানার দায়ের করা হয়েছে সেই বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় দুজনকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে, গত বুধবার (২৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেফতার আসামিরা হলেন- দিনাজপুর শহর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজবাটি (সবজিবাগান) এলাকার হবিবর রহমানের ছেলে জুবায়েদ আল মামুন জিহাদ (২৮) এবং একই এলাকার মৃত. আব্দুল মজিদের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা সাগর আলী (৩২)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৯ জুলাই বিএনপির রংপুর বিভাগীয় পদযাত্রায় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেখার জন্য ও শহরের ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে আয়োজিত পদযাত্রায় যোগদান করার জন্য জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পিস্তল, রামদা, হাঁসুয়া, লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল, কাঠের বাটাম, লোহার রড, পেট্রোলবোমা, ককটেলসহ বিএনপি ও বিএনপির অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিয়ে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় যেতে বাধা প্রদান করে এবং ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় যাত্রীবাহী বাস, মোটরসাইকেলে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।
এ সময় বাদীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। কিন্তু তিনি প্রাণে বেঁচে যান, এরপর তার গলায় ছুরি ধরে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে পেট্রোলবোমার আঘাতে তার শরীরের পেটের বাম পাশ এবং বাম ঊরু পর্যন্ত ঝলসে যায়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে রংপুর হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এরপর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও তাকে আসামিরা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন বলে এজাহারে উল্লেখ করেন।
এই ঘটনায় ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি দিনাজপুর শহরের বালুবাড়ী এলাকার মৃত. আবুল কালাম আজাদের ছেলে মোস্তফা কামাল রিংকু বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।