গাইবান্ধায় ভোটকেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুর, পুলিশ-আনসারসহ আহত ১০

গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের বড়দহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ ও আনসার সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ছিনতাই করা হয়েছে প্রায় এক হাজার ৪০০টি অব্যবহৃত ব্যালট পেপার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার একপর্যায়ে ওই কেন্দ্র প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে ভোট গণনা শেষে ফল ঘোষণা করা হয়। ফল ঘোষণার পর যৌথ বাহিনীর সহায়তায় প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার ও দায়িত্বরত সদস্যদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. মোজাইদুল ইসলাম এসব তথ্য বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন।

স্থানীয় সূত্র ও ভোটে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, কেন্দ্র সংলগ্ন বাড়ির মালিক দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. আব্দুর রহিমের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপির কর্মীদের বাগবিতণ্ডা হয়। পরে হামলা চালানো হয়। পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে জামায়াত নেতাকর্মীদের বাগবিতণ্ডার জের ধরেই পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়।

প্রিসাইডিং অফিসার জানান, কেন্দ্রটিতে মোট ভোটার চার হাজার ২৭২ জন। কাস্ট হয়েছে দুই হাজার ৬৭০ ভোট। প্রাপ্ত ফলাফলে ধানের শীষ পেয়েছে ৪৮৫ ভোট ও দাঁড়িপাল্লা পেয়েছে দুই হাজার ১৪৩ ভোট ও স্বতন্ত্র (মোটরসাইকেল) ২৪ ভোট পেয়েছে।

তিনি বলেন, ‘হামলার পর গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর করেছেন। হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্দেশনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে দুপুরে উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের বালুয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ধানের শীষের পক্ষের এজেন্ট ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে। জাল ভোটের চেষ্টার অভিযোগে তিন জনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ভোটগ্রহণ চলাকালে বিকাল ৩টার দিকে বিভিন্ন কেন্দ্রে অনিয়ম ও জোরপূর্বক ভোট দেওয়ার অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেনন জামায়াত প্রার্থী ডা. আব্দুর রহিম সরকার।

সন্ধ্যার পর নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি জানান, মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের বালুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেড়াডাঙ্গা স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসা এবং সিংজানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে ধানের শীষ প্রতীকে জোরপূর্বক সিল মারা হয়েছে। আমাদের পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে ৫০-৬০ জন কর্মী কেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রিসাইডিং অফিসারকে অবরুদ্ধ অবস্থায় ব্যালটে সিল দেয়। এগুলো সন্ত্রাসী কায়দায় ভোট ডাকাতি ছাড়া কিছুই নয়।