নারায়ণগঞ্জ আদালতে আইন কর্মকর্তার পদে থাকা জামায়াতপন্থি সাত জন অতিরিক্ত ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এবং সহকারী গভর্নমেন্ট প্লিডার (এজিপি) পদত্যাগ করেছেন। সরকারের নানা সিদ্ধান্তের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ ও পাবলিক প্রসিকিউটরের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা। পদত্যাগপত্রের একটি অনুলিপি জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান কবিরের কাছে জমা দেওয়া হয়।
পদত্যাগকারীরা হলেন- অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর নিজাম উদ্দিন, ইসরাফিল হোসাইন ও গোলাম সারোয়ার, সহকারী গভর্নমেন্ট প্লিডার (জিপি) মাইনুদ্দিন মিয়া ও জাহাঙ্গীর দেওয়ান এবং সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আক্তার হোসেন ও মাসুদুর রহমান। তারা জামায়াত-সমর্থিত সংগঠন বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
জামায়াতপন্থি এসব আইনজীবী বলছেন, জনগণের প্রত্যাশা ও ম্যান্ডেট অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের ব্যর্থতা তাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। বিচার বিভাগের জন্য একটি স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় সরকারের বিরোধিতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন।
এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের ফলে বিচারপতি নিয়োগে সরকার ও সরকারি দলের প্রভাব বিচার বিভাগের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করেন তারা। এসব ঘটনায় সাংবিধানিক শাসন ব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ‘বিবেকের তাড়নায়’ তারা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন।
পদত্যাগের কারণ উল্লেখ করে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আক্তার হোসেন বলেন, ‘সরকারের জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনীহা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা এবং আরও কয়েকটি নীতিগত বিষয়ে আমাদের মৌলিক মতপার্থক্য রয়েছে। সে কারণেই আমরা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান কবির বলেন, ‘ওসব আইন কর্মকর্তা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। আমরা সেটা গ্রহণ করেছি।’









