হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গাজিপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাজলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্থানীয় এক জামায়াত কর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক শারীরিক সম্পর্কের সময় গ্রামবাসীর হাতে ধরা পড়ার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
তিনি ওই ইউনিয়নের জারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকালে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুনারুঘাট উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ইদ্রিস আলী। এর আগে বুধবার উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের বিষয়টি পর্যালোচনা শেষে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা জামায়াত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে গজারিয়া পাড়ের প্রতিবন্ধী এক জামায়াত কর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ শারীরিক সম্পর্কের সময় জামায়াত নেতা নুরুল ইসলামকে আটক করে গ্রামবাসী। পরবর্তী সময়ে ন্যায় বিচারের আশ্বাসে ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মিজানুর রহমানের মধ্যস্থতায় প্রাথমিকভাবে ঘটনাটির নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। এরপর অভিযুক্ত জামায়াত নেতার বড় ভাই কাজল মিয়ার জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অভিযোগটি উপজেলা ও স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করেন। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক ভাবমূর্তি রক্ষার্থে নুরুল ইসলামকে ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতির পদসহ দলীয় সব ধরনের দায়িত্ব থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ইদ্রিস আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নুরুল ইসলাম সজলের বিরুদ্ধে ওঠা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই ইউনিয়নে জামায়াতের সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে মাওলানা মো. আব্দুল মতিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে নুরুল ইসলাম সজলের বক্তব্য জানার জন্য তার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি।
গত ৩ আগস্ট রাজশাহীর পবা উপজেলায় নয় বছর বয়সী এক মেয়েশিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তার নাম ওমর ফারুক (৩৫)। ওমর ফারুক উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা এবং একটি ইউনিয়নের ওয়ার্ডের পর্যায়ের রুকন ছিলেন। শিশুটিকে যৌন হয়রানির অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার হয়ে তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।
গত ১ আগস্ট বগুড়ায় এক নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে ধুনট উপজেলার জামায়াত নেতা মোশাররফ হোসেনের রুকনিয়াত বাতিল করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে জামায়াতে ইসলামী বগুড়া জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক নূর মোহাম্মদ আবু তাহেরের সই করা বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এবার ‘নারী ইস্যুতে’ জামায়াতের রুকন বহিষ্কার
যৌন হয়রানির অভিযোগে জামায়াত নেতা আটক, দল বলছে তদন্তের পর ব্যবস্থা







