কুড়িগ্রাম পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. ফজলে রাব্বীর বিরুদ্ধে এক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে মারধর ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর সিইও রাব্বীর আবাসিক কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী দুজন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে কর্মবিরতিতে গেছেন পৌরসভার কর্মচারীরা। অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে অপসারণ না করা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে পৌর কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন। এতে পৌরসভার দাফতরিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে।
এদিকে, সিইওকে রবিবারের মধ্যে বদলির ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) অন্নপূর্ণা দেবনাথ। এমন কর্মকর্তাকে কুড়িগ্রামে বহাল রাখার কোনও সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন ডিসি।
ভুক্তভোগী দুই কর্মচারীর অভিযোগ অনুযায়ী, পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক রশিদকে বিল-ভাউচার ও নথিপত্র নিয়ে নিজের বাংলোয় তলব করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে রাব্বী। নথি দেখার পর তাকে গালিগালাজ করা হয়। এর কারণ জানতে চাইলে ফজলে রাব্বী তার শার্টের কলার ধরে মেঝেতে ফেলে দেন এবং ফাইল ছুড়ে মারেন বলে অভিযোগ করেন রাজ্জাক। পরে তাকে ধাক্কা দিয়ে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এর কিছুক্ষণ পর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা শাখার চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আনারুল ইসলাম প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার জন্য সকালের নাশতা নিয়ে গেলে তাকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং চড়-থাপ্পড় মারা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। ভয়ে আনারুল সেখান থেকে চলে যান। এ ঘটনার পর দুপুর ১২টার দিকে দুই কর্মচারী পৌর কর্মচারী সংসদের নেতৃবৃন্দকে বিষয়টি জানান। পরে জরুরি সভা করে কর্মচারীরা ঘটনার প্রতিবাদে কর্মবিরতির ঘোষণা দেন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে পৌরসভায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।
ভুক্তভোগী আব্দুর রাজ্জাক রশিদ বলেন, ‘স্যার কোনও ফাইল সই করেন না। আজকে আমাদের সঙ্গে যে আচরণ করেছেন, তা মেনে নেওয়ার মতো নয়। ঠুনকো অজুহাতে আমাদের পিটিয়েছেন। একজন কর্মকর্তা কখনও অধীনস্থ কর্মচারীর গায়ে হাত দিতে পারেন না। আমরা তার সঠিক বিচার ও অপসারণ চাই।’
কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অপসারণ ও তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে সরে আসবেন না তারা।
কুড়িগ্রাম জেলা পৌর কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাফিজুর রহমান বুলু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে নির্বাহী কর্মকর্তা আমাদের দুই কর্মচারীকে পিটিয়েছেন। এর আগেও একাধিক কর্মচারীর গায়ে হাত দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আজকের ঘটনা ক্ষমার অযোগ্য। অবিলম্বে তার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। দাবি পূরণ না হলে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলবে।’
এদিকে কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে পৌরসভার দাফতরিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ লোকজন।
মারধরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সিইও মো. ফজলে রাব্বীর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কুড়িগ্রাম পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে অপসারণের ব্যাপারে আমি মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেছি। রবিবারের মধ্যে তাকে অপসারণ করা হবে। এমন কর্মকর্তাকে বহাল রাখার সুযোগ নেই।’