ময়মনসিংহের ত্রিশালে বালুর ঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় সারোয়ার জাহান ওরফে বাচ্চু নামে ছাত্রদলের সাবেক এক নেতাকে থাপ্পড় মারার ঘটনায় ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান।
এর আগে বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা ২টার দিকে উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীরবাজারের কুলুরবাড়ি এলাকায় অভিযানের সময় সারোয়ার জাহানকে থাপ্পড় মারেন ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী। ওই ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার একটি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকীর সঙ্গে আনসার ও র্যাব সদস্যরা বালু বিক্রির একটি পয়েন্টে যান। সেখানে তিনি ইজারাদারের কাগজপত্র দেখতে চান। এ সময় উপস্থিত থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ও ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি সারোয়ার জাহান ওরফে বাচ্চু অভিযানে আসা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চান।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পরিচয় দেওয়ার পর কথোপকথনের একপর্যায়ে সারোয়ার জাহানকে পরপর দুটি থাপ্পড় দেন ইউএনও। পরে র্যাবের এক সদস্য তাকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ইউএনও ওই সদস্যের হাত থেকে একটি লাঠি নিয়ে সারোয়ার জাহানকে কয়েকবার আঘাত করেন। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমান ইউএনওকে থামানোর চেষ্টা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ত্রিশালের কালীরবাজার এলাকায় বালু বিক্রির জন্য ইজারা নিয়েছে। বালুমহালটি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আওতাধীন।
সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের মালিক শামসুজ্জামান মাসুদ বলেন, প্রায় দুই কোটি টাকায় বৈধভাবে বালুমহালটি ইজারা নেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ইউএনও কাউন্টারে ঢুকে কাগজপত্র দেখতে চান। কাগজপত্র আনার কথা বলা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মী ওই ছাত্রদল নেতাকে মারধর করেন। ঘটনার পর তার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেও দেখা করতে পারিনি।
এদিকে, ওই ঘটনার পর আজ দিনভর ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী তার কার্যালয়ে ছিলেন না। সকাল থেকে বিভিন্ন কাজে তার কার্যালয়ে আসা সেবাপ্রার্থীদের অনেকেই ফিরে গেছেন। ইউএনওর অনুপস্থিতির কারণও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।
এর মধ্যে বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত স্থানীয় ত্রিশাল পৌর এলাকায় সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমানের উপস্থিতিতে একটি হাসপাতালে ওই ঘটনা নিয়ে সমঝোতা বৈঠক হয়। বৈঠকে ইজারাদারের লোকজন ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের একপর্যায়ে ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী সেখানে উপস্থিত হয়ে গতকালের ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
বৈঠক শেষে ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘দুপুরের পর মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের উদ্যোগে আমরা বৈঠকে বসেছিলাম। আমাদের মধ্যে এখন এ ধরনের কোনও বিষয় নেই।’
মারধরের ঘটনা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আইনসংগত কার্যক্রমের মধ্যে চলমান অবস্থায় হঠাৎ করে এ ধরনের একটা ঘটনা, তো অবশ্যই এটার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করবো। আমি দুঃখ প্রকাশ করি, ইভেন এটা আমি ফিলও করি।’
ময়মনসিংহ সদর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও বালুমহালের অপর ইজারাদার শাহরিয়ার আহমেদ সেলিম বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালতের সময় ইউএনওকে দেখে দাঁড়িয়ে সম্মান না জানানোয় ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রদল নেতাকে মারধর করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করা হয়েছে।’

ছাত্রদলের সাবেক নেতাকে পেটালেন ইউএনও, ভিডিও ভাইরাল







