ভারতে ট্রাকে পণ্য পরিবহনে নতুন নিয়ম জারির প্রতিবাদে দেশটির ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের ফলে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দুদেশের মাঝে আমদানি-রফতানি বন্ধ রয়েছে। তবে বন্দরের ভেতরের সব কার্যক্রম চালুসহ হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সকাল থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দুদেশের মাঝে পণ্য আমদানি-রফতানি বন্ধ আছে। নতুন এই নিয়ম প্রত্যাহার না হলে অনিদ্রিষ্টকাল পর্যন্ত পণ্য আমদানি-রফতানি বন্ধের কথা জানিয়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার ট্রাক প্রতি মালামাল পরিবহনে ওজন নির্ধারণ করে দিয়ে তা আজ রবিবার থেকেই কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে। ট্রাকে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ট্রাক প্রতি ১০ থেকে ১৫ টন ওজন কমিয়ে দিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৬ চাকার ট্রাকে ৩০ টনের পরিবর্তে ২০ টন এবং ১০ চাকার ট্রাকে ৪০ থেকে ৪৫ টনের পরিবর্তে সর্বোচ্চ ৩০ টন পণ্য পরিবহনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে করে ট্রাক প্রতি পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ায় পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়বে। আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে অতিরিক্ত খরচের বোঝা তৈরি হবে। সেই সঙ্গে অন্যান্য বন্দরে এই নিয়ম জারি না থাকায় তাদের খরচ কম হবে ফলে পণ্য পরিবহনে তাদের সঙ্গে প্রতিযোগীতায় হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা পিছিয়ে পড়বেন। এতে করে ব্যবসায়ীরা চরমভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। এই নিয়ম জারির প্রতিবাদে ভারতের হিলি বন্দরের ব্যবসায়ীদের সব সংগঠন যৌথভাবে বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ রাখার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত হিলি স্থলবন্দর দিয়ে অনিদ্রিষ্টকালের জন্য সব ধরনে পণ্য আমদানি-রফতানি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক কার্তিক চন্দ্র বলেন, ওভারলোডিং বন্ধ করে দেওয়ায় ভারতীয় ব্যবসায়ীরা আজ থেকে অনিদ্রিষ্টকালের ধর্মঘট ডেকেছে। হঠাৎ করে ভারত পণ্য রফতানি বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা আমদানিকারকরা ক্ষতির মুখে পড়েছি। আমার আজকে গমের গাড়ি ঢোকার কথা কিন্তু তাদের ধর্মঘটের কারণে ঢুকতে পারছে না। এক কনসালমেন্টের মধ্যে আট ট্রাক দেশে প্রবেশ করেছে আরও তিন থেকে চার ট্রাক ভারত অভ্যন্তরে রয়েছে এই ট্রাক না ঢোকা পর্যন্ত আমি খালাস করতে পারছি না। আমি ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বললাম তারা বলছে আজ ঢুকবে না আরও দু-একদিন অপেক্ষা করতে হবে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত। এতে করে বন্দরে বাড়তি মাশুল গুনতে হচ্ছে আমাকে। সেই সঙ্গে ভারতের নতুন নিয়ম চালুর ফলে আমাদের আমদানি খরচ বাড়বে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
হিলি কাস্টমস সিআ্যন্ড এফ এজেন্ট আ্যসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর ইসলাম বলেন, গতকাল ভারতের হিলি এক্সপোটার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্ট আ্যসোসিয়েশন এক পত্রের মাধ্যমে রবিবার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে অনিদ্রিষ্টকালের জন্য পণ্য আমদানি-রফতানি বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ রাখার বিষয়টি আমাদের অবগত করেছেন। পত্রে তারা উল্লেখ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের সঙ্গে কিছু কারণবশত আমরা পিছিয়ে পড়ছি। তাই একপ্রকার বাধ্য হয়ে বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি রফতানি বন্ধের সিন্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়েছে। তাদের এই ধর্মঘটের ফলে সকাল থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দুদেশের মাঝে পণ্য আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। তারা ভারত থেকে কোনও পণ্য বাংলাদেশে রফতানি করছেন না তেমনই বাংলাদেশ থেকে কোনও পণ্য আমদানি করছেন না। তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করলে বন্দর দিয়ে পুনরায় আমদানি-রফতানি বাণিজ্য শুরু হবে। তবে হিলি স্থলবন্দরের অভ্যন্তরে কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে পুর্বের আমদানি করা পণ্য খালাস ও ডেলিভারি দেওয়া কার্যক্রম চালু রয়েছে।
হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া বলেন, বন্দর দিয়ে দুদেশের মাজে পণ্য আমদানি রফতানি বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। প্রতিদিনের ন্যায় আজ সকাল থেকে দুদেশের মাঝে বৈধ পাসপোর্ট যাত্রীরা যথারীতি পারাপার করছেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত যাত্রীরা যাতায়াত করতে পারবেন।