নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো নিয়ে বিরোধ, ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো নিয়ে বিরোধের জেরে ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ছেলেকে থামাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী বাবা। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে মুত্তাকীন আলম শোভন পালিয়ে গেছেন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের পলাশবাড়ি গ্রামে খলিলগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের পেছনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নারীর নাম পারুল বেগম (৫৬ )। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সরদার আলী স্ত্রী (৬৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, সুমন মাদকাসক্ত। তাকে কয়েকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠিয়েছিলেন তার বাবা-মা। তবে প্রতিবারই সেখান থেকে পালিয়ে আসেন তিনি। সম্প্রতি তাকে আবারও নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বাবা-মা। এতে রাজি ছিলেন না সুমন।

বুধবার ভোরে সিরাজগঞ্জ থেকে আসা একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা সুমনকে নিতে তাদের বাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে ঘর থেকে বেরিয়ে বাড়িতে থাকা ছুরি দিয়ে মায়ের বুকে আঘাত করেন তিনি। এ সময় ছেলেকে থামাতে এগিয়ে এলে বাবার পেটে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন সুমন। পরে তিনি পালিয়ে যান।

এরপর বাড়িতে থাকা নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা আহত দুজনকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুনিরা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সরদার আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়।

খলিলগঞ্জের একটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল কাদের বলেন, সুমনের কারণে তার বড় ভাই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র ভাড়া থাকেন। যে মা ছেলেকে আগলে রেখেছিলেন, সেই মাকেই তার হাতে প্রাণ দিতে হলো। বাবার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

মাদক সহজলভ্য হয়ে পড়ায় তরুণ ও যুবকদের মধ্যে আসক্তি বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সন্তানদের মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করা এখন বড় উদ্বেগের বিষয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অভিযুক্ত সুমনকে আটক করতে পুলিশের অভিযান চলছে।