যাত্রাবিরতির দাবিতে নীলফামারীতে ট্রেন আটকে অবরোধ, ৪ ঘণ্টা পর চলাচল স্বাভাবিক

নীলফামারীর দারোয়ানী রেলস্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালুর দাবিতে রেলপথ অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে সদর উপজেলার দারোয়ানী টেক্সটাইল এলাকায় এ কর্মসূচিতে সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন। অবরোধের কারণে কয়েকটি ট্রেনের চলাচল ব্যাহত হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে প্রায় চার ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

অবরোধকারীদের ভাষ্য, চিলাহাটি-সৈয়দপুর রেলপথের দারোয়ানী স্টেশনটি স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখানে নিয়মিত ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহনে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এলাকায় উত্তরা ইপিজেডসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান থাকায় স্টেশনটিতে ট্রেন থামানোর প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে বলে মনে করেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায়, চড়াইখোলা ও কুন্দপুকুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে দারোয়ানী স্টেশনে ট্রেন থামানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। সেই দাবিতে বুধবার সকালে স্টেশন এলাকায় জড়ো হয়ে প্রথমে মানববন্ধন করেন তারা। পরে রেলপথ অবরোধ করেন।

এ সময় চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা রকেট মেইল ট্রেনটি দারোয়ানী স্টেশন এলাকায় আটকে পড়ে। অন্যদিকে চিলাহাটি থেকে খুলনাগামী আন্তনগর রূপসা এক্সপ্রেস নীলফামারী স্টেশনে আটকে যায়। এতে ট্রেন দুটিতে থাকা যাত্রীদের পাশাপাশি সৈয়দপুর, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী ও বিরামপুর স্টেশন থেকে খুলনাগামী ট্রেনে ওঠা যাত্রীরাও দুর্ভোগে পড়েন।

স্থানীয় বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম বলেন, আশপাশের ইউনিয়নের অনেক মানুষ দারোয়ানী স্টেশন ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। ব্যবসায়ীরাও এখান থেকে বিভিন্ন স্থানে পণ্য পরিবহন করেন। তাই তাদের প্রধান দাবি, এ স্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু করা হোক। এতে স্থানীয় মানুষের যাতায়াত সহজ হবে।

অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান নীলফামারী সদর উপজেলার ইউএনও মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ, সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং নীলফামারী রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার। তারা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। পরে অবরোধকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ইউএনও মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ বলেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে। আলোচনার মাধ্যমে যেসব ট্রেনের দারোয়ানী স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেওয়া সম্ভব, সেগুলোর বিরতির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।

প্রশাসনের আশ্বাসের পর এখন দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, দারোয়ানী স্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু হলে সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে এবং ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবেন।