৬০ লাখ নেওয়ার পর আরও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, যুবদল নেতা গ্রেফতার

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে প্রতারণার মাধ্যমে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে উজ্জ্বল মিয়া (৪১) নামের যুবদলের এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ঘোড়াঘাট পৌর শহর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রতারণা, চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ঘোড়াঘাট থানায় মামলা করেছেন রিফাত কবীর (২৩) নামের এক ব্যক্তি। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান। 

গ্রেফতার উজ্জ্বল মিয়া ঘোড়াঘাট উপজেলার ওসমানপুর ছয়ঘট্টি গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর ছেলে। তিনি যুবদলের ঘোড়াঘাট উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক। সোমবার রাতে তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন উপজেলার কাশিয়াতলা শিধলগ্রামের বাসিন্দা রিফাত কবীর।

মামলার এজাহার ও বাদী রিফাত কবীরের ভাষ্যমতে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে রিফাত কবীর উপজেলার সাগরপুর মৌজায় তার ৫৭ শতাংশ জমি উজ্জ্বল মিয়ার কাছে ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এ সময় জমি বিক্রির ১০ লাখ টাকা নগদ পরিশোধ করেন উজ্জ্বল। বাকি ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিতে তিনি গড়িমসি শুরু করেন।

পরে রিফাতের গরুর খামারের জন্য ৫০টি গরু দেওয়ার কথা বলে চলতি বছরের ৮ মার্চ থেকে ২ মে পর্যন্ত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অগ্রিম ৩০ লাখ টাকা এবং ঋণ হিসেবে ১৮ লাখ টাকা নেন উজ্জ্বল। সব মিলিয়ে ৬০ লাখ টাকা নেন। টাকা নেওয়ার পরও গরু না দেওয়ায় রিফাত টাকা ফেরত চান। এরপর উজ্জ্বল তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। গত ৮ জুন সকালে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে সালিশ হয়।

সালিশে ৭ লাখ টাকা পরিশোধ করেন এবং বাকি টাকা দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। এ সময় স্ট্যাম্পে জমির বায়নানামা, গরু কেনার বায়নানামা ও দায় স্বীকারোক্তিমূলক অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন।

তবে পরবর্তী সময়ে উজ্জ্বল টাকা পরিশোধ না করে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে রাস্তাঘাটে পেলে খুন-জখমের হুমকিও দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি ৫ লাখ টাকা চাঁদাও দিয়েছেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, একই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হুমায়ুন রাইস মিল থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার সময় রিফাতের পথরোধ করা হয়। এ সময় তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা এবং মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশ এবং প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিসাধনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

রিফাত বলেন, ওই দিনের সালিশে ৬০ লাখ টাকা পাওনার বিপরীতে ৭ লাখ টাকা পরিশোধ করেন উজ্জ্বল। বাকি টাকা অল্প সময়ের মধ্যে পরিশোধের লিখিত অঙ্গীকারও করেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও টাকা পরিশোধ করেননি উজ্জ্বল। পরে পাওনা টাকা চাইলে তিনি আর কোনও টাকা দেবেন না বলে জানান। একই সঙ্গে রিফাতের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে ৫ লাখ টাকা চাঁদাও দিয়েছেন।

রিফাত কবীরের দাবি, জমি ও ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া টাকা ফেরত না দিয়ে তার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। পাশাপাশি চাঁদা আদায়, মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে যুবদলের দিনাজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক এ কে এম মাসুদুল ইসলাম বলেন, ‘দলীয় পরিচয়ে কেউ অপরাধ করলে তাকে অবশ্যই সাজার আওতায় আসতে হবে। তবে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। উজ্জ্বল মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান বলেন, ‘প্রতারণার মামলায় উজ্জ্বল মিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’