২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পুলিশ মহা-পরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন নিহতের পিতা সিদ্দিক মিয়া। অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয় স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের সিকিউরিটি সেল, সিলেটের ডিআইজি, মৌলভীবাজার উপ-পরিচালক এনএসআই, ডিজিএফআই সিলেট বরাবর।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল থানার তৎকালীন ওসি আব্দুল জলিলের মধ্যস্থতার নামে ভবন মালিকের কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকা ঘুষ নেন। নিহতের পরিবারকে নাম মাত্র টাকা হাতে দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে থানা থেকে তাড়িয়ে দেন তিনি। পরে তিনি এ ঘটনায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরি করেন। শ্রীমঙ্গল থানার সাধারণ ডায়েরি নম্বর-২৫৮,তারিখ-৬.০৮.২০১৪ এবং ডায়েরি নম্বর- ৩১১,তারিখ- ৭.০৮.২০১৪।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়—
শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের গুহরোডের লংলা হাউসে শ্রমিক হিসেবে কাজ করার সময় কাওসারকে মারপিট করা হয়। এর আগে শহরের কলেজ রোড ভাড়াবাসা থেকে কাজে ফেরার পথে ভিক্টোরিয়া মাঠ থেকে একটি ক্রিকেট বল তার গায়ে এসে পড়ে। এ সময় সে বলটি দূরে ছুড়ে দেয়।
পরে এ ঘটনায় দলবদ্ধভাবে কয়েকজন যুবক কাওসারকে কাজে করা অবস্থায় মারধর করে। ২০১৪ সালের ৬ আগস্ট গুরুতর আহত অবস্থায় সহযোগীরা তাকে শ্রীমঙ্গল হাসপাতাল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানার দূলতপুর গ্রামের সন্তান কাওসারকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত কাউছারের বাবা শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা করতে গেলে শ্রীমঙ্গল উপ-পরিদর্শক রমাপ্রসাদ চক্রবর্তী ও ওসি আব্দুল জলিল মামলা নিতে টালবাহানা করেন। থানায় অভিযোগের কয়েক দিন পর তাকে থানায় ডেকে জোরপূর্বক কিছু টাকা হাতে দিয়ে হুমকি দিয়ে থানা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ সময় তাকে বলা হয়, ‘ডিআইজি স্যারের ক্যান্সারের চিকিৎসায় অনেক টাকা প্রয়োজন। ডিআইজি ও এসপি স্যারকে এখান থেকে কিছু টাকা দিতে হবে। এসব টাকা আমি একা খাব না। এ বিষয়ে কারও কাছে অভিযোগ করলে তোমাকে নানা মামলায় আসামি করে দেব। ভাল চাইলে থানা থেকে চলে যাও। আর এ ব্যাপারে কারও কাছে কিছু বলে লাভ হবে না।’
পরে নিহতের পরিবার নিরুপায় হয়ে থানা থেকে চলে যায় বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানায়।
আরও পড়ুন: লাউয়াছড়া উদ্যানে দুর্ঘটনা এড়াতে ২৫ হাজার গাছ কাটার চিঠি!
/এসএনএইচ/এইচকে/আপ-এআর/