দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামির নাম ফখরুল ইসলাম (২৬)। তিনি বিয়ানীবাজার থানার পূর্ব আলীনগর গ্রামের বাসিন্দা। খালাসপ্রাপ্ত জাকারিয়ার (১৮) বাড়ি গোলাপগঞ্জের ঘাগুয়া গ্রামে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৪ জুলাই সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে বিয়ানীবাজার থানার চন্দরপুর গ্রামের ঠিকাদার মিস্ত্রি জামাল উদ্দিনের (২৫) বাড়িতে ফখরুল ইসলাম ও জাকারিয়াসহ কয়েকজন যান। তারা জামালকে আঙ্গুরা মোহাম্মদপুর নির্মাণাধীন ব্রিজের কাজে যাওয়ার জন্য বলেন। জামাল ওইদিন তাদের সঙ্গে কাজে যাওয়ার পর আর বাড়িতে ফেরেনি। পরে তার পবিবার খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে ১৬ জুলাই জামালের ভাই মারুফ আহমদ বিয়ানীবাজার থানায় একটি জিডি করেন। পরদিন ১৭ জুলাই সকাল ৮টার দিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলার সন্ধিসাইল গ্রামের হাওড়ের পানিতে জামাল উদ্দিনের লাশ ভেসে থাকতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মারুফ বাদী হয়ে ফখরুল ইসলামসহ ৩ জনের নাম উল্লেখ করে বিয়ানীবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার নং-১৭ (১৭-০৭-০৬)। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ঘাতকদের গ্রেফতার করলে তারা জামাল হত্যার দায় স্বীকার করে।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ১০ জুলাই বিয়ানীবাজার থানার এসআই মো. মনিরুজ্জামান ২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। ২০০৮ সালের ১২ আগস্ট থেকে আদালত এ মামলার বিচার কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ শুনাণি ও ১৪ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামি ফখরুল ইসলামকে ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাকে উল্লিখিত দণ্ডাদেশ এবং অন্য আসামি জাকারিয়ার কোনও দোষ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে এ মামলায় বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট নওসাদ আহমদ চৌধুরী ও আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ লালা এবং স্টেট ডিফেন্স অ্যাডভোকেট সন্তু দাস ও অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম মামলাটি পরিচালনা করেন।
/এআর/এমএনএইচ/