নিউইয়র্কে নিহত ইমাম আলাউদ্দিনের বাড়ি হবিগঞ্জে, এলাকায় শোক-বিক্ষোভ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হবিগঞ্জের ইমাম মাওলানা আলাউদ্দিন আখঞ্জি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। জেলাজুড়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা। পরিবারসহ শুভাকাঙ্ক্ষী ও এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এতে বিচার করা হোক। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জে বেশ কয়েকটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ওলামা পরিষদ।

পরিবারের সঙ্গে ইমাম আলাউদ্দিন

নিহত আলাউদ্দিনের দেশে থাকা একমাত্র ছেলে ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমার বাবা হত্যাকাণ্ড চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এ ঘটনায় আমরা ভীষণ মর্মাহত। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে আমাদের চাওয়া একটাই। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে আমার বাবার আত্মা শান্তি পাবে।’ নিহত আলাউদ্দিন এর পুত্রবুধূ ফয়জিয়া রহমান বলেন, ‘আমাদের একমাত্র চাওয়া যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের খুঁজে বের করে গ্রেফতার করে শাস্তি দেওয়া।’

স্থানীয় সূত্র জানান, জেলার চুনারুঘাট উপজেলার আহমেদাবাদ ইউনিয়নের গোছাপাড়া  গ্রামের বাসিন্দা ও শহরের চৌধুরী বাজার জামে মসজিদের সাবেক ইমাম মাওলানা আলাউদ্দিন আখঞ্জি ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। সেখানে তিনি সপরিবারে বসবাস শুরু করেন। ইমামতি করতে শুরু করেন স্থানীয় একটি মসজিদে।

শনিবার স্থানীয় সময় বেলা ২টার দিকে নিউইয়র্কের আল ফুরকান জামে মসজিদ থেকে নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনিসহ তার এক সহকারী নিহত হন। এ ঘটনার পরপরই হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করে আলেম ওলামারা।

রবিবার সকালে হত্যাকাণ্ডের খবর তার গ্রামের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের লোকজন ছুটে যান বাড়িতে। গ্রামের বাড়িতে নিকটাত্মীয়স্বজন না থাকলেও হবিগঞ্জ শহরের অনন্তপুরে নিজস্ব বাসায় তার একমাত্র ছেলে ও পুত্রবধূ বসবাস করছে। হত্যাকাণ্ডের খবরে তারা শোকাহত ও মর্মাহত তারা এখন প্রহর গুনছেন লাশের অপেক্ষায়।

ইমাম আলাউদ্দিনের মৃত্যুতে এলাকায় বিক্ষোভ

হবিগঞ্জের গাউছিয়া জামে মসজিদের ইমাম, মাওলানা আশরাফুল ওয়াদুদ জানান, ইমাম আলাউদ্দিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো আলেম সমাজ ক্ষুব্দ ও মর্মাহত।  এ ধরনের হত্যাকাণ্ড কখনও কাম্য না। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার করা হলে আমরা শান্তি পাব।

নিহত আলাউদ্দিন আখঞ্জির প্রতিবেশী আমিনুল ইসলাম রবিন জানান, এ চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গোটা এলাকাবাসি শোকাহত ও স্তব্ধ। আমরা বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, যেন দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।

নিহত আলাউদ্দিনের ভাতিজা নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে আমার চাচাকে যারা হত্যা করেছে তাদের আমি বিচার চাই। বিচার হলে আমার চাচার আত্মার শান্তি পাবে। দাদা একজন সাদা মনের মানুষ ছিলেন। কেন তাকে হত্যা করা হলো এটিই প্রশ্ন।’

/ এইচকে/

আরও পড়ুন: বাংলাদেশি ইমামের হত্যাকারীকে শনাক্তের দাবি মার্কিন পুলিশের