সিলেটে তারাপুর চা বাগানের মামলায় অভিযোগ গঠন হয়নি





সিলেটসিলেটে শিল্পপতি রাগীব আলীর বিরুদ্ধে দেবোত্তর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগান দখল করে সরকারের হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনার মামলায় অভিযোগ গঠন হয়নি। বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) অভিযোগ গঠনের তারিখ নির্ধারণ থাকলে সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে মামলার আসামি পঙ্কজ কুমার গুপ্ত ও রাগীব আলীর ছেলে আব্দুল হাইয়ের আইনজীবীরা আদালতে ডিস চার্জের আবেদন করেন।



পরে আদালতের বিচারক ডিস চার্জের ওপর শুনানির জন্য আগামী ৪ ডিসেম্বর তারিখ ধার্য করেছেন। একই সঙ্গে এ মামলায় রাগীব আলীর ছেলে আব্দুল হাইয়ের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের বিচারক এ আদেশ দেন।
আদালতের কৌঁসুলি মাহফুজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সিলেটের তারাপুর চা বাগানের দেবোত্তর সম্পত্তি আত্মসাৎ মামলার আসামি পঙ্কজ কুমার গুপ্ত ও আব্দুল হাইয়ের আইনজীবীরা আদালতে ডিসচার্জের আবেদন করলে আদালতের বিচারক ডিস চার্জের ওপর শুনানির জন্য আগামী ৪ ডিসেম্বর তারিখ ধার্য করেছেন। এছাড়াও এ মামলা আব্দুল হাইয়ের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইসহ ছয়জন অভিযুক্ত। এরমধ্যে তারাপুর চা-বাগানের বৈধ সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তও রয়েছেন। গত ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ তারাপুর চা-বাগান পুনরুদ্ধারের রায় দেন। এ রায়ে ১৭টি নির্দেশনার মধ্যে এ মামলাটি পুনরায় তদন্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর বিচারিক হাকিম আদালত এক আদেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পুনরায় তদন্ত করার নির্দেশ দিলে ১০ জুলাই রাগীব আলীসহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে পিবিআই অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। ১০ আগস্ট দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে ওই দিনই তারা পালিয়ে ভারতে চলে যান।
এদিকে গত ১০ অক্টোবর এ মামলার অন্যতম আসামি রাগীব আলীর আত্মীয় দেওয়ান মোস্তাক মজিদ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। অভিযুক্ত অপর আসামি তারাপুর চা-বাগানের দেবোত্তর সম্পত্তির সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্ত বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

/এআর/