হবিগঞ্জ বিসিক অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার মাটির জিনিসপত্র তৈরির কাজে জড়িত। কিন্তু মাটির জিনিসপত্রের চাহিদা কমে যাওয়ায় কুমারপাড়ার কারিগররা বছরের অধিকাংশ সময় থাকেন বেকার। বিশেষ উৎসবে তাদের কর্মব্যস্ততা বাড়ে। বৈশাখী মেলাকে সামনে রেখে কুমারপাড়াগুলোতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। পরিবার পরিজন নিয়ে দিনরাত বিভিন্ন প্রকার হাড়ি-পাতিল, পশু-পাখি, মাটির ব্যাংকসহ বাহারি সামগ্রী তৈরিতে ব্যস্ত তারা। রোদে শুকিয়ে, আগুনে পুড়িয়ে তারপর নিপুন তুলির আঁচড়ে বাহারি রঙে রাঙিয়ে তোলা হয় মাটির তৈরি জিনিসগুলো।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আব্দুর রহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা লিপি রানী পাল জানান, সারা বছর আমরা অনেকটাই বেকার অবস্থায় থাকি। তবে বৈশাখ আসলে আমাদের কাজের চাপ বেড়ে যায়। এখন পরিবারের সবাইকে নিয়ে দিনরাত কাজ করছি।
তিনি জানান, এখনকার আয়ের উপর নির্ভর করে তাদের বাকি দিনগুলো চলতে হয়।
একই গ্রামের লিটন পাল বলেন, এখন থেকে দুই মাস আমাদের ব্যস্ততা থাকবে। পরে বছরের অধিকাংশ সময় বেকার বসে থাকতে হবে। মাটির তৈরি জিনিসই তাদের একমাত্র উপার্জনের উপায় বলেও জানান তিনি।
হবিগঞ্জ বিসিকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম সরকার জানান, বৈশাখ উপলক্ষে জেলার কুমারপাড়ার কারিগররা নানা ধরনের ফেন্সি জিনিসপত্র তৈরি করে এবং তাদের ব্যস্ততা বাড়ে।
তিনি বলেন, ‘কুমারপাড়ার বাসিন্দারা অধিকাংশই গরিব। তাদের আর্থিক সহযোগিতাসহ নকশা তৈরির জন্য বিভিন্ন ধরনের সাপোর্ট দিয়ে যাবে বিসিক।’
/বিএল/