এর আগে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এ মিথ্যা তথ্য দিয়ে জামিন নেওয়ার অভিযোগে আদালতের বিচারক মো. মামুনুর রহমান ছিদ্দিকী বাদী হয়ে সিলেট চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। (৯ মামলা নম্বর সিআর ৬৬২/১৭)।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী জানান, ‘মিথ্যা তথ্য দিয়ে জামিন নেওয়ায় সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এর বিচারক মো. মামুনুর রহমান ছিদ্দিকী বাদী হয়ে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। বিচারক অভিযোগটি আমলে নিয়ে দুই আইনজীবীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা হচ্ছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আকমল খাঁন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন (যিনি কথিত ফাহমিদা হকের নিযুক্ত আইনজীবী), সিলেট ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজার সৈয়দপুর গ্রামের আশিকুর রহমান চৌধুরীর ছেলে আহমেদ জামান চৌদুরী ফরহাদ, আসামির স্থানীয় জামিনদার জালালাবাদ থানার আখালিয়া নোয়াপাড়া ৩০/৩ বাসার মৃত ছোরাব আলীর ছেলে ছাদিক মিয়া, অজ্ঞাতনামা এক নারী ও সুনামগঞ্জ ছাতকের কালারুকা ইউনিয়নের কাজী মাওলানা আব্দুশ শাকুর।
আদালত সূত্র জানায়, হাতিমবাগ ২৩/এ বাসার বাসিন্দা ফাহমিদা হক ২০১৬ সালে ২০ ফেব্রুয়ারি আহমেদ জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (জিআর মামলা নং৩২/১৬)। এরপর আহমেদ জামান চৌধুরী গত ২ মে তার আইনজীবী মোহাম্মদ আকমল খাঁনের মাধ্যমে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এ আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আসামির সঙ্গে বাদীর বিয়ে হয়েছে উল্লেখ করে কাগজপত্রের সত্যায়িত কপি দাখিল করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী সাহাব উদ্দিন। ওই সময় ফাহমিদা হক সাজিয়ে অজ্ঞাতনামা একজন নারীকে হাজির করে পারিবারিকভাবে আপস হয়েছে বলে আদালতকে জানান আইনজীবী। ওই আসামির জামিন পেতে আপত্তি নেই বলেও জামিনের আবেদনে উল্লেখ করা হয়। আদালত শুনানি শেষে জামিন মঞ্জুর করেন।
এ ঘটনার পর গত ১৬ মে মামলার বাদী ফাহমিদা হক তার আইনজীবী আকবর হোসেনের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করে আদালতকে জানান, ২ মে মামলার আসামি আহমেদ জামান চৌধুরী ফরহাদের স্ত্রী সেজে যে ফাহমিদা হক আদালতে উপস্থিত হয়েছেন, তিনি মামলার বাদী ফাহমিদা হক নন।
/এমএনএইচ/