বিষ প্রয়োগের কারণে ওই মাছের ঘেরসহ হাইল হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকার পানি দূষিত হয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও জীব বৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তা।
বিষয়টি জেনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.মোবাশশেরুল ইসলামের তাৎক্ষণিক নির্দেশে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সহিদুর রহমান সিদ্দীকি আজ বুধবার দুপুরে মাছের ঘেরটি পরিদর্শন করেন। তিনি ওই ঘেরের পানির নমুনা পরীক্ষা করে বিষ প্রয়োগের প্রমাণও পেয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ঘেরের মালিক আশিক মিয়া জানান, ঘেরে বিষ প্রয়োগের ঘটনায় তিনি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। স্থানীয় বেসরকারি এনজিও সংস্থা কারিতাস ও গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে প্রায় ৬ মাস ধরে লিজ নেওয়া ১২ কেয়ার জায়গাজুড়ে মাছের চাষ করে আসছিলেন তিনি। এ জন্য প্রচুর বিনিয়োগও করে রেখেছেন। আসছে শুকনো মৌসুমে সেখান থেকে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার মাছ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগের ফলে ১ থেকে ৭ কেজি ওজনের বড় আকারের অনেক মাছ ঘের থেকে বেরিয়ে হাওরের পানিতে মিশে গেছে। আর ছোট আকারের মরা মাছগুলো পানিতে ভেসে উঠেছে।
বিষাক্ত পানি পরীক্ষা শেষে মৎস্য কর্মকর্তা সহিদুর রহমান সিদ্দিকী জানান, পানিতে স্বাভাবিক মাত্রায় ৭.৫ থেকে ৭.৮ মাত্রার প্রেজেন্ট অব হাইড্রোজেন (পিএইচ) থাকার কথা কিন্তু সেখানে ৫.৩ থেকে ৫.৪ মাত্রায় পিএইচ পাওয়া গেছে। এছাড়া পানিতে যেখানে ৫ মাত্রায় পিপিএম থাকার কথা সেখানে ০.৫ পিপিএম পাওয়া যায়। এর ফলে পানিতে যে পরিমাণ অক্সিজেন থাকার কথা তা অস্বাভাবিক কমে গেছে। পিএইচ ও পিপিএম কমে যাওয়ায় পানিতে বিষের উপাদান আছে বলে তিনি দাবি করেন।
ঘেরের মালিক আশিক মিয়া বলেন, বুধবার সকালে ঘেরে মাছের খাদ্য দিতে এসে দেখি চিলের উড়াউড়ি। পরে পানিতে নেমে দেখি প্রচুর পরিমাণে মাছ মরে ভেসে উঠেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, এলাকার কিছু লোক শত্রুতা করে আমার মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে থাকতে পারে। গত ৬ মাস ধরে বাড়ি ঘর ছেড়ে হাওরে পড়ে আছি। এর ওপর আমার ৯ সদস্যের পরিবারের খরচ চালাতে হয়। সমিতি, ব্যাংক ও এনজিও মিলে আমার অনেক টাকা ঋণ। মাছের খাদ্যের দোকানেও দেনা আছে। আমি আইনের কাছে বিচার চাই,ক্ষতিপূরণ চাই।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.মোবাশশেরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।