৬ ডিসেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি-বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো শীতল পাটির বুনন পদ্ধতিকে ‘ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’ তালিকায় যুক্ত করেছে। বিশ্বসভায়ও শীতল পাটি বিশেষ স্থান পাওয়ায় উৎফুল্ল স্থানীয়রা।
সাধারণত কৃষক পরিবারের গৃহিণীরাই শীতল পাটি তৈরি করেন। শুধু সংসার চালানোর জন্যই নয়, ঐতিহ্য ধরে রাখতেও অনেকে এ পাটি বুনে থাকেন। এক সময় স্বচ্ছল পরিবারের গৃহিণীরাও অবসরে পছন্দসই নকশায় বুনতেন শীতল পাটি।
সিলেট অঞ্চলে শীতল পাটির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গরমকালে এর চাহিদা বহুগুণে বেড়ে যায়। দেশ ছাড়াও যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে থাকা বাঙালিদের কাছেও এর ব্যাপক সমাদর রয়েছে। এসব দেশে সিলেট থেকে শীতল পাটি রফতানি করা হয়।
সিলেট অঞ্চলে কারুকাজভেদে শীতল পাটির রয়েছে বিভিন্ন নাম। এর মধ্যে পয়সা, সিকি, শাপলা, সোনামুড়ি, টিক্কা, লালগালিচা, আধুলি, মিহি উল্লেখযোগ্য। ৮০০ থেকে শুরু করে ৬ হাজার টাকার পাটিও রয়েছে। শীতল পাটির মূল উপাদান মুর্তা শুষ্ক মৌসুমে রোপণ করা হয়। বর্ষা মৌসুমে এই বেত পরিপক্ক হলে পানিতে ভিজিয়ে পাটি তৈরির উপযোগী করা হয়। এরপর চলে পাটি বুনন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগের তুলানায় এখন শীতল পাটির ব্যবসা অনেকটাই কম। চাহিদা মতো পাটি সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একটি শীতল পাটি বুনতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগে। তবে এটা বানিয়ে খুব বেশি মজুরি পান না কারিগররা।
সিলেটের গোলাপগঞ্জের বাঘা গ্রামের গৃহিণী নাসিমা বেগম বলেন, ‘বিয়ের ১৫ বছর হয়েছে। বাপের বাড়িতে মা-চাচিদের দেখেছি পাটি বানিয়ে বিক্রি করে কিছু টাকা আয় করতেন। আমার স্বামী একজন কৃষক, তার একার আয় দিয়ে সংসার চলে না। তাই আমিও পাটি বানিয়ে বিক্রি করি।’
২৭ বছর ধরে বালাগঞ্জে পাটি বিক্রি করে আসছেন বিলবাড়ি গ্রামের নিখিল দাস। তিনি জানান, খুব একটা উপার্জন না হওয়ায় অনেক কারিগর শীতল পাটি বোনা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন।
বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ সিংহ বলেন, ‘বালাগঞ্জের শীতল পাটির অনেক নাম-ডাক রয়েছে। আমাদের জন্য সত্যিই গৌরবের বিষয় যে বাঙালির ঐতিহ্য শীতল পাটিকে বিশ্ব সংস্কৃতির ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কো স্বীকৃতি দিয়েছে।’
সিলেট নগরীর পূর্ব কাজিরবাজারের পাটি বিক্রেতা জহির মিয়া জানান, ১৯ বছর ধরে তিনি পাটি বিক্রি করছেন। কিন্তু আগের তুলনায় এখন পাটি বিক্রি কম। তবে গরমকালে পাটি বিক্রি হয় বেশি।