সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হাজী মুজিব বলেন, মঙ্গলবার (১৮ ডিসেম্বর) শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভোজপুর বাজারে নির্বাচনি সভায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বাধা দেন। সভা মঞ্চের পাশ ঘেঁষে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের একটি প্রচারণার গাড়ি দাঁড় করিয়ে মাইকে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে সভাকে বিঘ্নিত করা হয়। কোনোমতে সভা শেষে ভোজপুর বাজার থেকে বের হয়ে শ্রীমঙ্গল আসার পথে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ আমার গাড়িটি ছেড়ে দিয়ে নেতাকর্মীদের মারধর করে আটক করে নিয়ে যায়।
এ ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে উপযুক্ত বিচার দাবি করেন হাজী মুজিব।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার দুপুরে শ্রীমঙ্গল উপজেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইমাদ আলীকে পুলিশ আটক করে। কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে ঐক্যপ্রক্রিয়ার একটি মিটিংয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মিটিং পন্ড করে দিয়েছে এবং নেতাকর্মীদের বিনা ওয়ারেন্টে আটক করার চেষ্টা করে। নেতাকর্মীরা প্রাণ নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ রহিমপুর ইউনিয়নের নির্বাচনি অফিস হতে উপজেলা বিএনপির সহ প্রচার সম্পাদক শিপলুকে আটক করে।
বিএনপি প্রার্থী জানান, সোমবার তিনি নিরাপত্তা চেয়ে জেলা রির্টানিং অফিসার বরাবর আবেদন করেছেন। আবেদনের পরপরই সন্ধ্যায় তার ছেলের ওপর দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়েছে।
এসব ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম সিদ্দিকী, কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি দুরুদ আহমেদ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম আহমেদ, সিন্দুরখান ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মকছুদ আহমেদসহ বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আসকির মিয়া বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে চা বাগান এলাকায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রচারণা কাজে নিয়োজিত গাড়িতে হামলা করে দুইজনকে মারধর করে আহত করা হয়েছে। রাজনৈতিক দল মিটিং করবে, রাজনৈতিকভাবে তা মোকাবেলা করা হবে। বিএনপির প্রার্থী ও তার নেতাকর্মীরা উল্টো আমাদের গাড়িতে হামলা করে গাড়ি ভাঙচুর ও মারধর করেছে। মাঠে ভোট চাওয়ার অধিকার সব দলের আছে। আমরা তাদেরকে কোনোভাবে প্রচারণা, মিটিংয়ে বাধাগ্রস্ত করছি না। আমার প্রশ্ন হলো, তারা কেন এসব করছে।’
শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (তদন্ত) মো. সোহেল রানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটেনি। আমরা কাউকে বাধা দিচ্ছি না। বিএনপির প্রার্থীর প্রচার ও প্রচারণাতেও পুলিশের কোনও বাধা নেই। এ পর্যন্ত পুলিশ যাদেরকে গ্রেফতার করেছে, তারা সবাই বিভিন্ন নাশকতা মামলার আসামি।’