মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার হাকালুকি হাওরের সাতবিলা ও ফোয়ালা বিল (জলমহাল) এলাকার বেশ কিছু জায়গা জুড়ে রযেছে জলজ উদ্ভিদের বন। এ বনের রয়েছে হিজল, করচ ও বরুণ গাছ। বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণীর আবাসও রয়েছে এ বনে। স্থানীয় কিছু লোক এরই মধ্যে বনের একাংশের গাছপালা কেটে সরিষার আবাদ করছে। ফলে ঝুঁকির মুখে পড়েছে বনের জীববৈচিত্র্য।
স্থানীয় হাকালুকি জগরণী ও বোরোদল ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড এ বনটি দেখভাল করে। বন পাহারায় চারজন নিয়োজিত আছেন। গত বছর নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে স্থানীয় কিছু লোক বনের একাংশের গাছপালা কাটা শুরু করেন। পাহারাদারেরা বাধা দিলেও তারা শোনেননি।
ইসিএ সমিতি এরই মধ্যে গাছ কাটার বিষয়টি প্রশাসন, বন বিভাগ ও পুলিশের কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
এ ব্যাপারে বোরোদল সমিতির সভাপতি নজীব আলী গত ৬ ডিসেম্বর বড়লেখার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজারের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও বড়লেখা থানার ওসি বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে বলা হয়, ১৯৯৯ সালে সরকার হাকালুকি হাওরকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে। হাওরের বড়লেখার ইসলামপুর মৌজায় ১ নম্বর সরকারি খাসখতিয়ানভুক্ত ৪০০৩ ও ৪০১৫ নম্বর দাগে (জেএল নম্বর-৯০) ১৫০ একর এবং হাকালুকি মৌজায় ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ১ নম্বর দাগে (জেএল নম্বর ৮৯) ১০০ একর জায়গায় জুড়ে রয়েছে হিজল, করচ ও বরুণের বন। বড়লেখার বর্ণি ইউনিয়নের কাজীরবন্দ গ্রামের মসাইদ আলী, সুরুজ আলী, মন্তাজ আলী ও লোকমান আলী বনের গাছ কাটছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এরই মধ্যে দুর্বৃত্তরা বনের ২০-২৫ একর জায়গার গাছপালা কেটে ফেলেছে। এমনকি গাছের শেকড়ও উপড়ে ফেলা হয়েছে। ফাঁকা হওয়া কিছু জায়গায় সরিষার বীজ রোপণ করা হয়েছে।
বনের পাহারাদার মাতাব উদ্দিন ও মখলিছ আলী বলেন, গাছ কাটার সময় তারা বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তাদের ভয়ভীতি দেখায়। তবে পুলিশ যাওয়ার পর থেকে গাছ কাটা বন্ধ আছে। কাটা গাছগুলো দুর্বৃত্তরা জ্বালানির জন্য নিয়ে গেছে।
বোরোদল সমিতির সভাপতি নজীব আলী বলেন, বনটি অনেক পুরোনো। বনের গাছপালা বর্ষায় হাওরের ঢেউ ঠেকায়। ফলে তীরবর্তী বাড়িঘর-রাস্তাঘাট রক্ষা পায়। বনের ভেতরে মেছোবাঘ, শিয়ালসহ বিভিন্ন ধরনের বন্য প্রাণী ও পাখি থাকে। গাছ কাটায় বনের জীববৈচিত্র্য এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করে মসাইদ আলী বলেন, এ জায়গাটা আগে থেকেই ফাঁকা। এলাকার গরিব লোকজন সেখানে সরিষার খেত করেছেন।
বড়লেখা উপজেলা ইউএনও এস এম আবদুল্লাহ্ আল মামুন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনায় জড়িত বেশ কয়েকজনের নাম-ঠিকানা পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/এসটি/