একদিন পরই হবিগঞ্জের পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলছে প্রশাসন, ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার

হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় জারি করা ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জিএম সরফরাজ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

আদেশে বলা হয়, হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ২৯ জুলাই ১৪৪ ধারার ক্ষমতাবলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমানে হবিগঞ্জ পৌর এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা না থাকায় পূর্বে জারি করা ১৪৪ ধারার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের বহনকারী গাড়িতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার প্রতিবাদে বুধবার এনসিপি ও যুবদল-ছাত্রদলের ঘোষিত পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই থমথমে হয়ে ওঠে হবিগঞ্জ শহর। 

এ অবস্থায় যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সকাল ১০টার পর হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন জেলা প্রশাসক। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদারে দায়িত্ব পালন করে তিন প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। 

বুধবার বিকালে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে হবিগঞ্জে প্রবেশের চেষ্টা করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। গাড়িবহরে ছিলেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারওয়ার তুষার এবং জাতীয় নারী শক্তির সদস্য সচিব মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

তবে বাহুবল উপজেলার পুরাতন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রশীদপুর এলাকায় পৌঁছালে তাদের গাড়িবহরের সামনের ট্রাক দিয়ে গতিরোধ করে পুলিশ। এ সময় পুলিশ ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে সেখানে দীর্ঘ দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনা ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দেয় এনসিপি। 

মঙ্গলবারের হামলার ঘটনায় মামলার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলকে হবিগঞ্জ সদর থানায় যাওয়ার অনুমতি চায় দলটি। তবে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সেই অনুমতি দেয়নি পুলিশ। পরে উভয় পক্ষের সমঝোতায় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দেন এনসিপি নেতারা।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিরাপত্তাজনিত কারণে এনসিপির নেতৃবৃন্দকে হবিগঞ্জে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদের সঙ্গে এনসিপির নেতৃবৃন্দের আলোচনা হয়। এরপর মঙ্গলবারের হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিতে বুধবার রাত ৮টার দিকে কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে যান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। সেখানে দেওয়া লিখিত অভিযোগে হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের জুয়েল ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন। সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয় আজ।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন মামলা রুজুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এনসিপির পক্ষ থেকে দেওয়া লিখিত অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাই শেষে মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।’