আট বছর পর চা শ্রমিকদের ভোটের লড়াই, তফসিল আজ

দীর্ঘ আট বছর পর অবশেষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন। আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের ২৩১টি চা বাগান ও পঞ্চায়েত এলাকায় বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে প্রায় এক লাখ চা শ্রমিক তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

নির্বাচন কমিশন ও শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে সাড়ে তিন হাজারের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। অংশ নিতে পারে ছয় শতাধিক প্যানেল। প্রতিটি বাগানের ১৫ সদস্যের পঞ্চায়েত কমিটি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সাতটি ভ্যালির নেতৃত্ব নির্বাচনেও ভোটগ্রহণ হবে।

শ্রীমঙ্গল শ্রম অধিদফতরের উপপরিচালক মহব্বত হোসাইন মুঠোফোনে জানান, আজ শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। তা শ্রম অধিদফতরের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হবে। আগামী ২৮ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে।

চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাতটি ভ্যালি হলো, লস্করপুর, বালিশিরা, মনু-ধলাই, লংলা, জুড়ী, সিলেট ও চট্টগ্রাম। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসতে তোড়জোড় শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। কেন্দ্রীয় সভাপতি পদে রামভাজন কৈরী, রাজু গোয়ালা ও পঙ্কজ কন্দ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নিপেন পাল ও পরেশ কালিন্দির নেতৃত্বাধীন প্যানেলগুলো নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পর ভ্যালি ও পঞ্চায়েত পর্যায়ের প্রার্থীরাও আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নামবেন।

দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় ইউনিয়নের কমিটিগুলোতে স্থবিরতা নেমে এসেছিল বলে মনে করছেন শ্রমিকেরা।

লাখাইছড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি ও সম্ভাব্য প্রার্থী শ্যামল বৈদ্য অভিযোগ করেন, অতীতে অনেকে নেতা হয়ে নিজেদের আখের গুছিয়েছেন। তাই এবার শ্রমিকেরা মজুরি বৃদ্ধি ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারবেন, এমন যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নেবেন।

দেওছড়া চা বাগানের রাধেশ্যাম বাউরী ও কাকিয়াছড়ার অতুল কুর্মী জানান, শুধু জয়লাভ করাই নয়; দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি, সময়মতো বেতন পরিশোধ, সন্তানদের সুশিক্ষা এবং জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন এমন নেতৃত্বই এখন চা শ্রমিকদের প্রধান চাওয়া।

প্রসঙ্গত, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে দীর্ঘ আট বছর ধরে কেন্দ্রীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২৪ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে হিসাবে ২০২১ সালেই নতুন কমিটি নির্বাচিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। ফলে তিন বছরের জন্য নির্বাচিত কমিটিই টানা আট বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছে।