রাজশাহী অঞ্চলের সব অধিভুক্ত সরকারি-বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষদের নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
সোমবার (৩০ জানুয়ারি) রাজশাহীর মনিবাজারে শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান অডিটোরিয়ামে ‘শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালা ও মতবিনিময়’ শীর্ষক দিনব্যাপী এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। রাজশাহী অঞ্চলের ৪০৬টি কলেজের অধ্যক্ষ এই কর্মশালায় অংশ নেন।
কর্মশালায় উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও সুপারিশ তুলে ধরে বক্তব্য দেন অধ্যক্ষরা।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মানোন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। তারা ইতোমধ্যে অ্যাকাডেমিক এবং ফিজিক্যাল মাস্টার প্লান প্রণয়ন করেছে। কর্মমুখী ১৩টি পিজিডি কোর্স চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ১৯টি শর্ট কোর্স চালু করতে যাচ্ছে। এসব খুবই ভালো উদ্যোগ। কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিতে এসব উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। কারণ, বর্তমান সময়ে একজন শিক্ষার্থীকে অবশ্যই ভাষা, সফ্ট স্কিল, আইসিটি ও অন্ট্রাপ্রেনারশিপ শিখতে হবে। তা না-হলে বিশ্বের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা কঠিন হয়ে পাড়বে। ’
শিক্ষার নানা উদ্যোগের কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষায় রূপান্তর ঘটতে যাচ্ছে। শিখন এবং পঠন পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আমরা এবছর ২৬টি নতুন বই রচনা করেছি। এগুলোতে ভুল থাকলে আমরা পরিবর্তন করবো। কিন্তু একটি পক্ষ গুজব ছড়িয়ে পরিবেশ অশান্ত করতে চায়। এবিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সঠিক তথ্য জানতে হবে, জানাতে হবে। যেসব তথ্য পাঠ্যবইতে নেই সেসব তথ্যকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে পাঠ্যবইয়ে রয়েছে বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা মোটেই সত্য নয়।’
সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার মানোন্নয়ন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এজন্য আমরা নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সময়ের চাহিদার নিরিখে নতুন নতুন পিজিডি কোর্স এবং কর্মমুখী শর্ট কোর্স চালু করতে যাচ্ছি। কিন্তু নতুন কোর্সগুলো পড়ানোর জন্য আমাদের দক্ষ শিক্ষকের অভাব আছে। এসব শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে উপযুক্ত করে গড়ে তোলাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, একজন শিক্ষক তো একদিনে তৈরি হয় না। এর পেছনে অনেক শ্রম, মেধা ও সময় ব্যয় করতে হয়। আমরা নতুন কর্মমুখী কোর্স আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চালু করবো। এর মধ্যেই শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এজন্য মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে শিক্ষকদেরকেই।’
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম কবীর, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহ আজম প্রমুখ।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেনের সঞ্চালনায় কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যক্ষ ড. জোবাইদা আয়েশা সিদ্দিকা, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বদরুজ্জামান, তথ্যপ্রযুক্তি দফতরের পরিচালক মো. মুমিনুল ইসলাম, রাজশাহী আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিচালক মো. ফয়জুল করিম মনির প্রমুখ।