এক মাদ্রাসার ১৯ শিক্ষক-কর্মচারীর কাছে দেড় কোটি টাকা ফেরত চেয়েছে সরকার

এক মাদ্রাসার প্যাটার্ন বহির্ভুভতভাবে নিয়োগ পাওয়া ১৯ শিক্ষক-কর্মচারীর ইনডেক্স কর্তন এবং অবৈধভাবে উত্তোলন করা এক কোটি ৪৪ লাখ ৪৮ টাকা ফেরত চেয়েছে সরকার। ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলাধীন ইকরামউদ্দীন মডেল কামিল মাদ্রাসার (আলিম স্তর পর্যন্ত এমপিওভুক্ত) ফাজিল ও কামিল স্তরের এসব শিক্ষক-কর্মচারীর  কাছে এই অর্থ ফেরত চেয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর। 

সোমবার (৩ আগস্ট) জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (মাদ্রাসা) শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও পুনঃবিবেচনা, গ্রেড পরিবর্তন, বাতিল, স্থগিত সংক্রান্ত এমপিও পুনঃবিবেচনা কমিটির গত ১৬ জুন সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এই টাকা ফেরত চায় মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর। 

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের গত ১৮ জুলাই অনুষ্ঠিত এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটির ২০২৩ সালের জুলাই মাসের সভায় ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলাধীন ইকরামউদ্দীন মডেল কামিল মাদ্রাসার (আলিম স্তর পর্যন্ত এমপিওভুক্ত) ফাজিল ও কামিল স্তরের ১৯ (উনিশ) জন প্যাটার্ন বহির্ভূত শিক্ষক-কর্মচারীর ইনডেক্স কর্তন এবং ফাজিল ও কামিল স্তরের ১৯ (উনিশ) জন প্যাটার্ন বহির্ভূত শিক্ষক-কর্মচারী কর্তৃক বিধিবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত উত্তোলিত এক কোটি ৪৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা আগামী এক মাসের মধ্যে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। 

উক্ত সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ফাজিল ও কামিল স্তরের ১৯  জন প্যাটার্ন বহির্ভূত শিক্ষক-কর্মচারী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে ১৯১৩ সালের পাবলিক ডিমান্ডস রিকভারি আইনের (পিডিআর আইন) বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে মামলা দায়ের করা হবে।

অফিস আদেশে আরও জানানো হয়, ওই মাদ্রাসার সংশ্লিষ্ট ১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে তাদের নামের পার্শ্বে বর্ণিত অতিরিক্ত উত্তোলিত অর্থ অবিলম্বে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে ট্রেজারি চালানের মূল কপি অথবা সত্যায়িত অনুলিপি অধিদফতরে দাখিল করার জন্য নির্দেশক্রমে দেওয়া হয়। অন্যথায়, তাদের বিরুদ্ধে ১৯১৩ সালের পাবলিক ডিমান্ডস রিকভারি আইনের (পিডিআর আইন) বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের তালিকা ও অর্থের পরিমাণ— 

১. আরবি বিভাগের প্রভাষক মো. আল আমিন, ৭ লাখ ৫১ হাজার ২৪২ টাকা। 

২. আরবি বিভাগের প্রভাষক মো. রাশেদুল ইসলাম, ১০ লাখ ৬০ হাজার ৩৩২ টাকা।

৩. বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. কুদরাত-ই রহমান, ১৮ লাখ ১ হাজার ১৩২ টাকা।

৪. ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ফজলুল ইসলাম, ১৮ লাখ ১ হাজার ১৩২ টাকা

৫. ইসলামের ইতিহাসের প্রভাষক মো. ফারুক হোসেন, ২১ লাখ  ৩৫ হাজার ৫৪১ টাকা।

৬. প্রভাষক (গ্রন্থাগারিক) মো. সরোয়ার হোসেন, ৭ লাখ ৫১ হাজার ২৪২ টাকা।

৭. সহকারী গ্রন্থাগারিক মহিউদ্দিন, ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৩৯৫ টাকা।

৮. সহকারী মৌলভী মো. নুরনবী, ৬ লাখ ২৭ হাজার ৭০২ টাকা।

৯. জুনিয়র শিক্ষক নাজরিন, ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৪৫৩ টাকা।

১০. অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর কাজী আল মাসুদ, ৪ লাখ ৮১ হাজার ৯৮৩ টাকা। 

১১. ল্যাব সহকারী (পদার্থ) মো. রেজাউল মিয়া, ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৯১১ টাকা।

১২. ল্যাব সহকারী (জীববিজ্ঞান) সাম্মি আক্তার, ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৯১১ টাকা।

১৩. ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী মো. মাসুম বিল্লাহ, ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১৭৫ টাকা।

১৪. ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী মো. সাইফুল ইসলাম, ৩ লাখ ২৮ হাজার ২১৫ টাকা।

১৫. পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. নাজমুল ইসলাম, ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৭ টাকা।

১৬. ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী হাবীব গাজী, ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১৭৫ টাকা।

১৭. প্রভাষক (ফকিহ) মো. আজিজুল হক, ৬ লাখ ৪৩ হাজার ৩৭০ টাকা।

১৮. প্রভাষক (ফকিহ) জাহিদ হোসেন, ৬ লাখ ৪৩ হাজার ৩৭০ টাকা টাকা।

১৯. প্রভাষক মো. মহিবুর রহমান, ৬ লাখ ৪৩ হাজার ৩৭০ টাকা।