মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬ উদযাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে তাদেরকে তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল দক্ষতা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে অধিকতর সম্পৃক্ত হওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “মাদ্রাসা শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও কর্মমুখিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইউজিসির উদ্যোগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে একটি কর্মশালা শিগগিরিই অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে উন্নয়নের বাস্তবভিত্তিক রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হবে।” কর্মশালায় নারী শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।
অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, “ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বিভিন্ন পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্নের উদ্যোগ ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোর পুনর্গঠনে নিরলসভাবে কাজ করছে। জাতীয় উন্নয়নের এ অভিযাত্রায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, সফট স্কিলস, ইন্টার্নশিপ, উদ্যোক্তা উন্নয়নসহ বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই ধরনের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশ বিনির্মাণে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা দক্ষ, সৃজনশীল, প্রযুক্তিনির্ভর ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এবং চাকুরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে সক্ষম হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াছ ছিদ্দিকী, ট্রেজারার শাহিনুল ইসলাম এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান ।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ জাতিকে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রেরণা জোগায়। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, আধুনিক জ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষায় সমৃদ্ধ করে যুগোপযোগী মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় নিরলসভাবে কাজ করছে। শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে অধিভুক্ত মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।”
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তির খবর, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ‘হয়নি’







