শিক্ষক সংকট কমাতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উদ্যোগ

শিক্ষক সংকট কমাতে বিষয়ভিত্তিক খণ্ডকালীন শিক্ষক পুল গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এই পুলে অবসরপ্রাপ্ত যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হবে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের ১০৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনকে আরও সহজ, কার্যকর ও সময়োপযোগী করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৩৪ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনির্দিষ্ট মিশন, ভিশন, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সভায় বিভিন্ন কলেজে শিক্ষক সংকট কমাতে বিষয়ভিত্তিক খণ্ডকালীন শিক্ষক পুল গঠনের নীতিমালা অনুমোদন করা হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষক সংকটে থাকা কলেজগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী অভিজ্ঞ শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দক্ষ বিশেষজ্ঞদের পাঠদানের সুযোগ তৈরি হবে।

উপাচার্য বলেন, অবসর নেওয়া অভিজ্ঞ শিক্ষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ বিশেষজ্ঞদের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষার্থীদের শেখানোর সুযোগ তৈরি করতেই বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক পুল গঠন করা হচ্ছে।

এদিকে সভায় স্নাতক (সম্মান) কোর্সের ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বিশেষ বিবেচনায় আরও একবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কিল-বেইজড পিজিডি প্রোগ্রামে ফ্রিল্যান্সিংয়ের আওতায় গ্রাফিকস ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং ও ওয়েব ডিজাইন, কালিনারি সায়েন্স এবং হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট অন্তর্ভুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে স্নাতক (পাস) ও স্নাতক (সম্মান) প্রোগ্রামের দ্বিতীয় বর্ষে চার ক্রেডিটের অ্যাপ্লাইড আইসিটি এবং প্রথম বর্ষে ফাংশনাল ইংরেজি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব কোর্সের সিলেবাস ও রেগুলেশনও অনুমোদন করা হয়।

সভায় বিসিএসসহ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ ক্ষেত্রে তিন বছর মেয়াদি ডিগ্রি (পাস) ও এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স (প্রিলিমিনারি) সম্পন্নকারীদের সনদের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চার বছর মেয়াদি ডিগ্রি সনদ ও মাস্টার্স (প্রিলিমিনারি) সনদকে চার বছর সমতুল্য ডিগ্রি হিসেবে দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে যোগাযোগে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ছাড়া সিজিপিএ ২ দশমিক ২৫ এর কম পাওয়া শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে না পড়েন, সে জন্য বিশেষ বিবেচনায় মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও বিবেচনা করা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে চার বছর মেয়াদি এলএলবি (সম্মান) কোর্সের অধিভুক্তি রেগুলেশনও অনুমোদন করা হয়।

স্কিল-বেইজড পিজিডিতে নতুন বিষয় যুক্ত করার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, শুধু প্রচলিত ডিগ্রি যথেষ্ট নয়; শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে সরাসরি ব্যবহারযোগ্য দক্ষতা অর্জন করতে হবে। একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে দক্ষতা ও বাস্তবমুখী শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেশ ও আন্তর্জাতিক কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্য রয়েছে।

সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইনসহ একাডেমিক কাউন্সিলের ৪৩ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষার ফলাফল, শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশ ও সিদ্ধান্ত এবং নতুন কারিকুলাম অনুমোদন করা হয়। পাশাপাশি ১০২তম একাডেমিক কাউন্সিলের কার্যবিবরণীও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।