প্রিয়াঙ্কা জানান, ত্বকের রঙ ফর্সা করার ক্রিমের প্রচারণা হিসেবে নির্মিত বিজ্ঞাপনচিত্রটি দেখার পর নিজের বোকামি বুঝতে পারেন তিনি। তখন তার মুখ থেকে বেরিয়ে এসেছে, ‘ধুর ছাই, এ কি করেছি?’ এটা দেখে নাকি নিজের ওপর ঘৃণা হচ্ছিল তার। তাই ওই পণ্যের বিজ্ঞাপনী চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসেন তড়িঘড়ি।
এই অভিজ্ঞতা প্রিয়াঙ্কাকে মনে করিয়ে দিয়েছিল তার শৈশব-কৈশোরের দিনগুলো। ভোগ ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও প্রিয়াঙ্কা স্বীকার করেন, ষোড়শী হওয়ার আগে গায়ের রঙ ফর্সা করতে চেয়েছিলেন। কারণ ভারতে ফর্সা মেয়েদেরই সুন্দরী হিসেবে দেখা হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে গায়ের রঙ ফর্সা করবে এমন প্রচারণা দেখে শৈশব-কৈশোরে এ ধরনের ক্রিম নিয়মিত ব্যবহার করতেন তিনি। বিজ্ঞাপনটির কাজ করার পর তার মনে হয়েছে, নিজে ছোটবেলার দৈন্যদশার প্রচারণা চালাচ্ছেন!
কৃষ্ণাঙ্গ কিংবা শ্যামলা মেয়েদের কেমন বৈষম্যের শিকার হতে হয় তা নিয়েও ম্যাগাজিনটির সঙ্গে কথা বলেছেন প্রিয়াঙ্কা। এ কারণে ভারতে উজ্জ্বল ত্বক পেতে সব মেয়েই মরিয়া থাকে। তবে নিজের ত্বকের রঙ নিয়ে গর্বিত তিনি।
২০০২ সালে তামিল ছবি ‘তামিজান’-এর মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় প্রিয়াঙ্কার। এরপর বলিউডে ধীরে ধীরে পাকা আসন গড়ে নেন। তার উল্লেখযোগ্য ছবির তালিকায় রয়েছে ‘ডন’, ‘ফ্যাশন’, ‘কামিনে’, ‘বরফি!’, ‘বাজিরাও মাস্তানি’ প্রভৃতি।
কৃষ্ণবর্ণের মেয়েদের বেলায় চারপাশে নানান প্রতিকূলতা থাকলেও পশ্চিমে ঠিকই খ্যাতি অর্জন করেছেন প্রিয়াঙ্কা। এবিসি নেটওয়ার্কের টিভি সিরিজ ‘কোয়ান্টিকো’র সুবাদে তিনি এখন আন্তর্জাতিক তারকা। এখন চলছে এর তৃতীয় মৌসুম। হলিউডের ছবিতে তার অভিষেক হয়েছে ‘বেওয়াচ’ দিয়ে। এখন তার হাতে আছে হলিউডের আরও দুটি ছবি— ‘অ্যা কিড লাইক জ্যাক’ এবং ‘ইজন’ট ইট রোমান্টিক?’।
এখন টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিচ্ছেন প্রিয়াঙ্কা। তার প্রযোজিত সিকিমিজ ছবি ‘পাহুনা’ বৃহস্পতিবার প্রদর্শিত হয়েছে এ আয়োজনে। এটি পরিচালনা করেছেন ভারতের নারী নির্মাতা পাখি তায়ারওয়ালা।
এদিকে হলিউডের সঙ্গে যৌথভাবে একটি ছবি প্রযোজনার ঘোষণা দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। এর নাম ‘লাভ সোনিয়া’। এজন্য তিনি হাত মিলিয়েছেন হলিউডের প্রযোজক ডেভিড ওমার্কের সঙ্গে। ভারতের এক গ্রামীণ তরুণীকে ঘিরে এর গল্প। বৈশ্বিক যৌন বাণিজ্য নেটওয়ার্কের ফাঁদে পড়ে জীবন বদলে যায় তার। এ চরিত্রে অভিনয় করবেন টিভি অভিনেত্রী ম্রুনাল ঠাকুর। এছাড়াও থাকছেন ফ্রিডা পিন্টো ও ডেমি মুর।
এক সপ্তাহের মধ্যে ত্বকের রঙ ফর্সা হবে এমন ক্রিমের বিজ্ঞাপন নিয়ে কয়েক বছর ধরে বিতর্ক চলছে। এগুলোর বেশিরভাগেই দেখানো হয়, কৃষ্ণবর্ণের কিংবা শ্যামলা মেয়েরা গায়ের রঙের কারণে ভালো সুযোগ থেকে বঞ্চিত। কিন্তু ত্বকের রঙ ফর্সার ক্রিম ব্যবহারের পর ইতিবাচকভাবে জীবনের মোড় ঘুরে যায় তাদের।
বলিউড অভিনেত্রীদের মধ্যে ইয়ামি গৌতম (ভিকি ডোনার, কাবিল, সনম রে, বদলাপুর) এমন কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হয়ে প্রচুর সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এ ধরনের কাজ করায় ইয়ামির মতো আরও কয়েকজনকে কয়েক মাস আগে একহাত নেন বলিউড অভিনেতা অভয় দেওল। কঙ্গনা রনৌত জানান, এমন ক্রিমের বিজ্ঞাপনে কাজ করার সব প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি তার সঙ্গে সুর মেলান নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকী।