পাশে বসে এ কথাটায় সায় দিয়ে মাথায় মৃদু একটু ঝাঁকুনি যে দিলেন, তার নাম আফজাল কবীর। একই নাটকে অভিজিৎ নামে তিনি মন্দিরার নায়ক। তাই মন্দিরার এই হাসাহাসির বড় সাক্ষী যে তিনিই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ থেকে পড়াশোনা করেছেন। এর আগে প্রভাত ফেরী দলের হয়ে মঞ্চে অভিনয়। আর দীপ্ত টিভিতে অভিনেতা হিসেবে চাকরি করছেন এ শিল্পী। ‘নাট্যশিল্পী হিসেবে এটা বেশ ভালো অভিজ্ঞতা। কারণ এখানে নিজের পছন্দের বিষয়টি নিয়ে চাকরি করছি। অভিনয়ের জন্য মাস শেষে বেতন গুনছি।’
চ্যানেলটি তিনটি বড় পরিসরের ধারাবাহিক নিয়ে আসছে। এগুলোর বেশিরভাগ শিল্পীই বেতনভুক্ত। সকাল-সন্ধ্যা কাজ করেন তারা। প্রয়োজনে এখানেই চলে রান্না-বান্না, আড্ডা; এমনকি ঘুম!
ফারজানা রিক্তা যেমন বললেন, ‘অনেকেই বলে কাজের বিষয়ে আমরা বেশ গম্ভীর। হ্যাঁ, এটা ঠিক কাজের বিষয়ে আমরা বেশ সিরিয়াস থাকি। কিন্তু আমাদের এখানে সবই চলে। পাশেই তো কারওয়ান বাজার। সেখানে থেকে বাজার করে চলে আমাদের পিকনিক। বিশেষ করে আমাদের নাটকের (খুঁজে ফিরি তাকে)পরিচালক-প্রযোজকরা এ ধরনের কাজে বেশ উৎসাহী। তারাই কিন্তু রান্না করেন, আর আমরা হয়ে যাই হেলপার!’
টিভি পর্দায় রিক্তা পরিচিত মুখ। বেশ কিছু ধারাবাহিক করেছেন। সর্বশেষ ‘কার্তুজ’ ছবির নায়িকা হিসেবে পর্দায় এসেছেন। তবে এখানে কাজ করলেও বাইরে কাজ করতে তেমন বাধা নেই। তার ভাষ্য, ‘দীপ্ত টিভির আয়োজনটা পুরো পরিবারের মতো। এখানে একজন চুক্তিবদ্ধ শিল্পী টিভিটির বিভিন্ন ধারাবাহিকে কাজ করবে। বাইরে কাজ করা যাবে, তবে অন্য কোনও টিভির ধারাবাহিকে কাজ করতে পারবে না। কারণ আমরা চাই নাটকের চরিত্রটি প্রতিষ্ঠিত হোক। ‘খুঁজে ফিরি তাকে’তে আমার চরিত্রটির নাম বনানী। এখানেও আমাকে সেখাবে সম্বোধন করা হয়।’
ইমতু দীর্ঘদিন ধরে টিভিতে কাজ করছেন। তাই পার্থক্যটা বললেন তিনি, ‘আমাদের এখানে নাটকের পুরো আয়োজনটিই খুব সময় নিয়ে ও গুছিয়ে করা। এখানে প্রতিটি সংলাপ, পোশাক- সবকিছুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আর আমাদের কাজগুলো প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে হচ্ছে। তাই মনোসংযোগও বেশ ভালোভাবে নাটকে থাকে। একটি পরিবার যেভাবে চলে, সেই আবহ থাকে নাটকে। তাই দর্শকরা আচমকা কোনও অসামঞ্জস্যপূর্ণ দৃশ্য পাবে না।’
পালকী’ নাটকের সাবা চরিত্র করছেন রানী আহাদ। ২০১৩ সালে মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তিনি। দু’একটি কাজও করেছেন দেশের বাইরে পড়াশোনা করে এ শিল্পী। প্রায় শুরু থেকেই কাজ করছেন চ্যানেলটির সঙ্গে।
‘নাটক সম্পর্কে অনেকেই বলছেন কলকাতা বা ভারতীয় ধারাবাহিকের ছায়া আছে। তবে আমরা শুধু তাদের নির্মাণপ্রক্রিয়া অনুসরণ করেছি। কারণ এদেশের দর্শকরা তাদের নাটক দেখছে। সে দর্শকদের সংখ্যা অনেক বেশি। তারা যদি আমাদের দেশে নির্মিত এ নাটকগুলো দেখে, এতে আমাদের জন্যই ভালো।’ বললেন রানী আহাদ। আর নিজের চরিত্র? চটজলদি তার উত্তর, ‘এখানে আমি শহুরে মেয়ে। নাম সাবা’।
এবার আসা যাক ‘পালকী’তে। এ চরিত্রটির মানুষের নাম স্নিগ্ধা মোমিন। ছিলেন লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগী। ২০০৮ সালের সে প্রতিযোগিতায় সেরা দশে না থাকলেও পরের স্থানটি ছিল তার। এরপর ‘রেডিও চকলেট’, ‘চলিতেছে সার্কাস’সহ বেশ কিছু ধারাবাহিকে কাজ করেছেন তিনি। আর ছোটবেলায় নাচও শিখেছেন নিয়মিত।
নিজেদের কাজগুলো সম্পর্কে তার মত, ‘আসলে আমরা চাচ্ছি, লোকজন আমাদের চরিত্রটা গ্রহণ করুক। যেমন ‘অপরাজিতা’র অভিজিৎ, মন্দিরা অথবা ‘খুঁজে ফিরি তাকে’র বনানীকে, কিংবা আমাদের ‘পালকী’ নাটকের চরিত্রগুলোকে। দর্শরকা যেন আমাদেরকে তাদের পরিবারের সদস্য করে নেয়। প্রতিটি রাতে দেশের প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে আমরা থাকব।’
ছবি তুলেছেন সাজ্জাদ হোসেন
/এম/