ঢাকার বসুন্ধরা আইসিসিবি এক্সপো জোনে হবে এটি। এ আয়োজনটি করছে উইন্ডমিল অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেড।
অন্যদিকে একই দিনে একই কনভোকেশন সেন্টারের অন্য আরেকটি হলে আয়োজন করা হচ্ছে ব্যান্ড আর্টসেলের ২০ বছরপূর্তি কনসার্ট। এশিয়াটিক এক্সপিরেনশিয়াল মার্কেটিং লিমিটেডের আয়োজনে এ কনসার্টটির নাম ‘টুয়েন্টি ইয়ারস অব আর্টসেলিজম’।
আর্টসেলের দলনেতা লিঙ্কন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মূলত আমাদের আত্মপ্রকাশ ১৯৯৯ সালের অক্টোবরে। চলতি বছর আমাদের ২০ বছরপূর্তি হলো। সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে আমরা আজকের কনসার্টটি করছি।’
অন্যদিকে বেশ আগেই, চার দশকের পথচলা স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষভাবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয় মাইলস। গত ৬ মাসে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় ২৮টি কনসার্ট করে দলটি। এছাড়াও তারা দেশে কনসার্টের আয়োজন করে। যার শেষটি হচ্ছে আজ (২৪ ডিসেম্বর)।
পুরো আয়োজন প্রসঙ্গে দলটির অন্যতম সদস্য হামিন আহমেদ বলেন, ‘মাইলসের চল্লিশ বছরপূর্তির সর্বশেষ আয়োজনটি আমরা বাংলাদেশেই রেখেছি। সবাইকে চমক দিতে আমাদের পাশাপাশি অন্যান্য ব্যান্ডও বাজাবে। ভক্তদের জন্য আজকের সন্ধ্যায় থাকবে বেশ কিছু সারপ্রাইজও।’
এতে মাইলস ছাড়াও থাকছে ওয়ারফেইজ, ভাইকিংস, সোলস, ফিডব্যাক এবং দলছুটের পরিবেশনা।
মাইলস ও আর্টসেলের দুটি কনসার্টই হচ্ছে বসুন্ধরা আইসিসিবি এক্সপো জোনে। শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা থেকে। চলবে মধ্যরাত পর্যন্ত।
*নিলামে উঠলো হামিন আহমেদের গিটার
মাইলস-এর শুরুটা হয় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল (সাবেক হোটেল শেরাটন)-এ ইংরেজি গান পরিবেশনার মাধ্যমে।
১৯৮২ সালে তাদের প্রথম অ্যালবাম বের হয় ইংরেজি ভাষায়। ওই সময় কিছু লোক বলেছিল, মাইলস বাংলা গান রচনা করতে পারে না! মূলত এমন কথার জবাব দিতে গিয়েই মাইলস তাদের প্রথম বাংলা অ্যালবাম প্রকাশ করে। অ্যালবামটির নাম ‘প্রতিশ্রুতি’। ‘চাঁদ তারা’সহ অ্যালবামটির প্রতিটি গান তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি দলটিকে। যে অ্যালবামই বের করেছেন, সেটিই সুপারহিট। শুধু বাংলাদেশেই নয়, গানগুলো সমান জনপ্রিয়তা পেয়েছিল পশ্চিমবঙ্গেও।
মাইলসই প্রথম ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশে সিডি অ্যালবাম প্রকাশ করে। ডিসকো রেকর্ডিং নামে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে প্রকাশিত এই সিডির নাম ‘বেস্ট অব মাইলস’। ১৯৯৬ সালে ভারতে পাঁচটি, আবুধাবি ও দুবাইতে দুটি কনসার্ট করে। চ্যানেল এম ও এমটিভি সরাসরি এই কনসার্ট রেকর্ড করে। ১৯৯৬ সালে তারাই প্রথম বাংলাদেশি ব্যান্ড ছিল, যারা প্রথম যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সফরে যায়।
মাইলস-এর ইতিহাসে একটি অন্যতম কনসার্ট হয়েছিল ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে, যেখানে প্রায় ৬০ হাজার দর্শক হয়েছিল। এই কনসার্টটি আয়োজিত হয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে এবং স্পন্সর ছিল পেপসি ।
২০০১ সালে মাইলস নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে কনসার্টের জন্য আমন্ত্রিত হয়। ওই কনসার্টে আরও ছিল জুনুন এবং সিল্ক রুট ব্যান্ড।
মাইলস-এর অ্যালবামগুলোর মধ্যে রয়েছে—মাইলস (ইংরেজি-১৯৮২), প্রতিশ্রুতি (১৯৯১), প্রত্যাশা (১৯৯৩), প্রত্যয় (১৯৯৬), প্রয়াস (১৯৯৭), প্রবাহ (২০০০), প্রতিধ্বনি (২০০৬), প্রতিচ্ছবি (২০১৫) ও প্রবর্তন (২০১৬)।
২০০২ সালে প্রকাশিত এ অ্যালবামের নাম ‘অন্য সময়’। ২০০৬ সালে আসে ‘অনিকেত প্রান্তর’। আর্টসেল ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে নিয়মিত কনসার্ট করে আসছে। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বেশ কিছু জায়গায় কনসার্টের অভিজ্ঞতা তাদের আছে। মাঝে দলের সদস্যদের ব্যস্ততা থাকায় বিরতি ও ভাঙা-গড়ার মধ্যে পড়ে তারা।