এতে সিনেমা সংশ্লিষ্টরা বেশ খুশি। পাশাপাশি চলচ্চিত্র তৈরিতেও আলাদা বরাদ্দ চান নির্মাতারা। গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে চলচ্চিত্রের ১৯টি সংগঠনের পক্ষ থেকেও আলাদা আবেদনপত্রে সিনেমা নির্মাণে বরাদ্দ রাখার আর্জি করা হয়।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, ‘সিনেমা হল সংস্কার বা চালুর জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণও দরকার। এজন্য বছরে বাণিজ্যিক ধারার অন্তত ৪টি ছবি তৈরির বরাদ্দের জন্য আমরা আবেদন করেছি। অন্তত ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলে ভালো মানের সিনেমা তৈরি সম্ভব।’
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘সিনেমা হলের ঋণের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত আমরা পেয়েছি, তা আমাদের জন্য খুবই আশার খবর। পাশাপাশি মাথায় রাখতে হবে, সিনেমা হলগুলো দীর্ঘসময় যেন ভালোভাবে চলে। এ জন্য নির্মাণের প্রতিও আমাদের জোর দিতে হবে। সরকারের কাছে আবেদন, যেন এ বিষয়টিতেও নজর দেওয়া হয়।’
সরকারের নতুন এই তহবিল সম্পর্কে গতকাল তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করছি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে চলচ্চিত্র শিল্পে বিরাট পরিবর্তন আসবে। বন্ধ হয়ে যাওয়া সিনেমা হল চালু, চালু হলের সংস্কার ও আধুনিকায়ন করাসহ অনেক নতুন সিনেমা হল গড়ে উঠবে। ১৯৫৭ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশে জাতীয় চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ শিল্পের উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে এক হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায়।’
এদিকে, এই অর্থ বরাদ্দ তিনটি খাতে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি।
১ হাজার কোটি টাকার অর্থ বরাদ্দের ঘোষণার পর এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মিয়া আলাউদ্দিন বলেন, ‘মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় তিন ক্যাটাগরির হল মালিকদের জন্য ঋণ বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। এগুলো হলো, বন্ধ হওয়া হল চালু ও সংস্কার, পুরনো হল সংস্কার এবং নতুন হলের জন্য ঋণ সুবিধা। আশা করি নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি বিবেচনা করবেন।’
জানা যায়, প্রজ্ঞাপন জারি করে শিগগিরই এ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে হস্তান্তর করা হবে।