এরপর বাংলাদেশ জন্মের পরের বছর সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশ, মাটি ও মানুষের কথা বলার ব্রত নিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ টেলিভিশন। ১৯৮০ সালে দর্শকদের রঙিন পর্দা উপহার দেওয়ার মাধ্যমে নতুন যুগে পা রাখে বিটিভি। এখন বিটিভি ওয়ার্ল্ড নামে এটি দেশের বাইরেও নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে। দর্শকের কাছে পৌঁছাতে যুগোপযোগী পরিবর্তনের অঙ্গীকার আর প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে এবার ৫৬ বছরে পা রাখছে গণমাধ্যমটি।
এ উপলক্ষে আজ (২৪ ডিসেম্বর) বিটিভির প্রধান কার্যালয়ে (রামপুরা) এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এখানে উপস্থিত ছিলেন বিটিভির মহাপরিচালক এসএম হারুন-অর-রশীদ, অনুষ্ঠান ও পরিচালনা পরিচালক জগদীশ এষ, উপ-মহাপরিচালক (অনুষ্ঠান) ড. তাসমিনা আহমেদ, উপ-মহাপরিচালক (বার্তা) অনুপ খাস্তগীর, ঢাকা কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার নাসির মাহমুদসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও প্রযোজকবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘গণমানুষের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার ও বিনোদনের যে সাধারণ চাহিদা তা আমরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করে থাকি বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে। দেশের প্রধান গণমাধ্যমকে তো পিছিয়ে থাকলে চলে না; তাই একবিংশ শতাব্দীতে এসে অন্যান্য টেলিভিশনের মতো আমরাও যুগোপযোগী হতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
আরও বলেন, ‘আমরা ডিজিটাল কনটেন্ট ও প্রোগ্রাম তৈরি করছি, যেগুলো এই মুজিবশতবর্ষে শিগগিরই প্রচারে যাবে। বিটিভি নতুন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে। বিটিভির অনুষ্ঠান ক্রমশই আধুনিক হচ্ছে এবং বিষয়-বৈচিত্র্য সাজানো জনবান্ধব অনুষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। আমরা দর্শককে আরও বেশি বিটিভির সঙ্গে সংযুক্ত করতে খবর ও বিনোদনের পাশাপাশি দর্শকবান্ধব অনুষ্ঠানের দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছি।’
‘বদলে যাবে বদলে দিবে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিটিভি আরও গণমুখী করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও জানান মহাপরিচালক।
এদিকে, চ্যানেলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে করোনাভাইরাসের এই কঠিন সময়ে কোনও বৃহৎ আয়োজন না থাকলেও বিটিভির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেরাই স্বল্প পরিসরে উদযাপন করবেন দিনটি। এদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত লাইভ অনুষ্ঠান প্রচার করবে চ্যানেলটি। দুটি স্টুডিও থেকে এই লাইভ অনুষ্ঠান পরিচালিত হবে। এতে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আয়োজনও থাকছে।