মুক্তি পেল ‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’

ইচ্ছে করেই মাত্র চার হলে!

মুক্তির আগেই বেশ আলোচিত চলচ্চিত্র ‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’ মুক্তি পাচ্ছে আজ শুক্রবার (২২ জানুয়ারি)। যে ছবিটি এ পর্যন্ত ২২টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছে, পেয়েছে বেশ কটি পুরষ্কারও। অথচ সেটি আজ মুক্তি পাচ্ছে ঢাকার মাত্র চারটি প্রেক্ষাগৃহে! একটু অবাক হওয়ার মতোই ঘটনা। কারণ, যে বাজারে ছবি মুক্তির সময় হল সংখ্যা বাড়ানোর জোর তদবির চলে, সেখানে ছবি সংশ্লিষ্টরা বলছেন- ইচ্ছে করেই তারা ঢাকা ও ঢাকার বাইরের অন্য হলগুলো ‘এভয়েড’ করেছেন।

ছবিটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান খনা টকিজ জানায়, আজ শুক্রবার ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্স, যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লকবাস্টার সিনেমাস, নিউমার্কেটের বলাকা সিনেওয়ার্ল্ড ও শ্যামলীর শ্যামলী স্কয়ারে।

নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা চাওয়ার আগেই ঢাকার বাইরের অন্তত ২৫টি প্রেক্ষাগৃহ থেকে ছবিটি নেওয়ার জন্য প্রস্তাব পেয়েছি। কিন্তু হলগুলোর পরিবেশ ও কোয়ালিটি বিবেচনা করে- আমরা দেইনি তাদের। কারণ, আমি চাই না- প্রেক্ষাগৃহের কারণে আমার ছবির ইমপ্রেশন দর্শকদের কাছে খারাপ হোক।’

তাহলে এমন একটি ব্যয়বহুল প্রশংশিত ছবি মানুষের কাছে পৌঁছানোর ব্যাবস্থা কী? প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান খনা টকিজের পক্ষ থেকে পরিচালক অং রাখাইন জানান, তাদের পরিকল্পনা রয়েছে ফেব্রুয়ারিতে জেলা ভিত্তিক প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করবেন ছবিটির। নিজস্ব প্রযুক্তি-প্রজেকশন দিয়েই ছবিটি নিয়ে পুরো বাংলাদেশ ঘুরবে ‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’ টিম।    

প্রসঙ্গত, ছবির গল্পে দেখা যাবে, ‘রক্তকরবী’ নাটকের নন্দিনী চরিত্রে অভিনয় করে রয়া। এক যুগ ধরে মঞ্চে নন্দিনীর ভূমিকায় অভিনয় করছে সে। কিন্তু বয়স বেড়ে যাওয়ায় দলনেতা চরিত্রটিতে আরেকজনকে স্থলাভিষিক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন দল নেতা। পাশাপাশি স্বামীর যান্ত্রিক হিসাব-কষা জীবন তাকে হতাশ করে, একাকীত্বের জন্ম দেয়। এতে রুনা চরিত্রে অভিনয় করেছেন বলিউড অভিনেত্রী সাহানা গোস্বামী।  এদিকে রয়ার বিপরীতে ভারতীয় অভিনেতা রাহুল বোসকে দেখা যাবে নাট্য বিশ্লেষকের চরিত্রে। এবারই প্রথম বাংলাদেশি ছবিতে কাজ করলেন দুজনে। ছবিতে বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পীরা হলেন মিতা চৌধুরী, শাহাদাৎ হোসেন, তৌফিকুল ইসলাম ইমন, টোকাই নাট্যদলের রিকিতা নন্দিনী শিমু প্রমুখ।
ছবিটি প্রসঙ্গে পরিচালক রুবাইয়াত হোসেনের বক্তব্য এমন, ‘এ দেশের নারীরা নিজেদের প্রতিনিয়ত নতুনভাবে আবিষ্কার ও নির্মাণ করছে। মেয়েদের মধ্যে জীবনযাত্রাকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টেছে। এটা চলমান প্রক্রিয়া। গল্পটা নারী কেন্দ্রিক এবং নাগরিক। প্রতিটি নারী এবং এ শহরটাকে বরাবরই নির্মাণাধীন মনে হয়। তাই ছবির নাম দিয়েছি আন্ডার কনস্ট্রাকশন।’

/এমএম/