গাজী মাজহারুল আনোয়ারের প্রয়াণ

‘আমাকে সুচরিতা বানিয়েছেন গাজী ভাই’

তার প্রকৃত নাম বেবী হেলেন। তবে রুপালি জগতে পরিচিতি পেয়েছেন সুচরিতা নামে। ঢাকাই সিনেমায় আশির দশকে নায়িকা এবং পরবর্তী সময়ে জ্যেষ্ঠ চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি কুড়িয়েছেন।

বেবী হেলেন থেকে সুচরিতা হওয়ার পেছনে যার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি ছিল, তাদের একজন কিংবদন্তি গীতিকবি, নির্মাতা ও প্রযোজক গাজী মাজহারুল আনোয়ার। আজ রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে তিনি মারা গেছেন। তাই শোকাহত অভিনেত্রী কান্নার ঢেউ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেন না।

গাজী মাজহারুল আনোয়ারের বারিধারার বাসায় আসেন সুচরিতা। দোতলার বাসায় গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন, সান্ত্বনা দেন। এরপর কাঁদতে কাঁদতে নেমে আসেন। তাকে দেখে গণমাধ্যমকর্মীরা এগিয়ে যান, কিন্তু কান্নার জন্য ঠিকমতো কথাই বলতে পারলেন না কালজয়ী নায়িকা।

চোখ মুছতে মুছতে সুচরিতা শুধু বলেছেন, ‘আমাকে সুচরিতা বানিয়েছেন গাজী ভাই। তিনি, আজিজুর রহমান, দিলীপ বিশ্বাস ওনাদের হাতেই আমি বড় হয়েছি। তাকে নিয়ে এভাবে কথা বলতে হবে, ভাবিনি।’  

এদিকে ঢাকাই সিনেমার সফল নৃত্যপরিচালক আজিজ রেজা কাজের সূত্রে ছিলেন ময়মনসিংহে। সেখান থেকেই শুনলেন গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মৃত্যুর খবর। এরপর আর দেরি করলেন না। ছুটে এলেন ঢাকায়, গীতিকবির বাসার সামনে।

আজিজ রেজা/ছবি: সাজ্জাদ হোসেনকথা বলতে গিয়ে তার গলাও ধরে আসে কান্নায়। নিজেকে সামলে তিনি বললেন, ‘গাজী ভাই নেই, এটা আমি বিশ্বাসই করতে পারি না। আমি তাকে বাবা বলেই জানতাম। আমার আজিজ রেজা হওয়ার পেছনে গাজী ভাইয়ের অবদান অনেক বেশি। গাজী ভাইয়ের প্রতিটি সিনেমায় কাজ করেছি। যখনই তিনি ডাকতেন, ছুটে এসেছি। এই বাসায় (গাজী মাজহারুল আনোয়ারের বাড়ি) আমি হাজারবার এসেছি। গাজী ভাইয়ের সঙ্গে আমার যেমন সম্পর্ক ছিল, সেটা কেবল আর একজনের সঙ্গেই ছিল, তিনি রাজ্জাক ভাই। আমার বাবা নেই, রাজ্জাক ভাই চলে গেছেন, গাজী ভাইও চলে গেলেন। কত কষ্ট লাগছে, বলে বোঝাতে পারবো না।’

প্রসঙ্গত, সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজী মাজহারুল আনোয়ারকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হবে। এরপর বাদ জোহর এফডিসিতে অনুষ্ঠিত হবে প্রথম জানাজা। গুলশানের আজাদ মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে।