দুলু যেভাবে ফারুক হলেন

নায়ক ফারুক হিসেবে সবার কাছে পরিচিত তিনি। ঢালিউডের সত্তর ও আশির দশকে জনপ্রিয়তার সঙ্গে কাজ করেছিলেন। এরপর জ্যেষ্ঠ ভূমিকায়ও তার অভিনয় দর্শকের নজর কেড়েছে। মজার ব্যাপার হলো, যেই নামে তিনি খ্যাতি অর্জন করলেন, কালজয়ী হলেন, সেটা তার আসল নাম নয়!

ফারুকের আসল নাম আকবর হোসেন পাঠান দুলু। পরিবার, বন্ধু-স্বজনদের কাছে তিনি দুলু নামেই পরিচিত। তাহলে ফারুক নামটি কীভাবে এলো? সেই গল্প তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন ২০১৬ সালে, বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে।

ফারুক জানান, অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান, চলচ্চিত্র পরিচালক এইচ আকবর ও ফারুক নামের এক বন্ধুর পরামর্শে তিনি ‘ফারুক’ নামটি ধারণ করেছিলেন। সেই ঘটনা জানিয়ে অভিনেতা বলেছিলেন, ‘ছয় দফা আন্দোলনের পর আমি ওয়ান্টেড ছিলাম, যে কারণে নাম দিয়ে দিলো ফারুক। ওরা বলল, এই নামে তোমাকে প্রথমে কেউ ধরবে না। দ্বিতীয়ত, চলচ্চিত্রের নামগুলো ছোট হলে ভালো হয়, সুন্দর হয়—যেমন রাজ্জাক, উজ্জল, ফারুক, আলমগীর, শাবানা; নাম ছোট হলে ক্যাচি হয়।’

এরপর ফারুক নামেই সিনেমায় কাজ শুরু করেন ফারুক। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগেই রূপালি ভুবনে নাম লেখান। এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ তার প্রথম সিনেমা। এটি মুক্তি পায় ১৯৭১ সালে।

হাস্যোজ্বল ফারুক/ ছবি: সাজ্জাদ হোসেনফারুকের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট, মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায়। তবে বেড়ে উঠেছেন পুরান ঢাকায়। ছাত্রজীবনেই তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। সেই সুবাদে ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯’র গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

ফারুক অভিনীত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ছবি হলো- ‘আবার তোরা মানুষ হ’, ‘গোলাপি এখন ট্রেনে’, ‘সুজন সখি’, ‘নয়নমণি’, ‘আলোর মিছিল’, ‘লাঠিয়াল’, ‘মিয়া ভাই’, ‘সাহেব’ ইত্যাদি। অভিনয়ের জন্য ১৯৭৫ সালে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ২০১৬ সালে ভূষিত হন আজীবন সম্মাননায়।

বরেণ্য এই নায়ক সোমবার (১৫ মে) সকালে মারা গেছেন। সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ২০২১ সালের মার্চ মাস থেকে সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।