কিংবদন্তি চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুক প্রয়াত হয়েছেন গত সোমবার (১৫ মে)। একাধারে তিনি ছিলেন ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য। অনেক আগে থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলটির মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। তবে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে অনেক কাজই করতে পারেননি। এবার তো দুনিয়া ছেড়েই চলে গেলেন।
ফারুকের মৃত্যুর পর থেকে আলোচনা চলছে তার সংসদীয় আসন নিয়ে। নায়কের মৃত্যুতে ফাঁকা হয়ে যাওয়া আসনটিতে নতুন করে কে পাবেন মনোনয়ন, সেটি নিয়েও চলছে জল্পনা-কল্পনা। অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান অনেক দিন ধরেই এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান বলে জানিয়ে আসছেন। ফারুকের মৃত্যুর পরও প্রকাশ্যে এসেছে তার পোস্টার। যেখানে বলা হয়েছে, সিদ্দিক গুলশান-বনানী আসনটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চান।
তবে ঢাকাই সিনেমার নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়ক ওমর সানী আসনটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান আরেক জনপ্রিয় নায়ক ফেরদৌস আহমেদকে। এ বিষয়ে বুধবার ফেসবুকে একটি পোস্ট করে সানী লিখেছেন, ‘ফারুক ভাই চলে গেছেন, আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করুন। তার শূন্যতা কেউ পূরণ করতে পারবে না, গুলশান-বনানীতে তার যে সংসদ সদস্য পদ খালি হয়েছে সেই জায়গায় আমাদের ছোট ভাই ফেরদৌসকে ভাবাই যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটু ভেবে দেখবেন, ধন্যবাদ।’
বৃহস্পতিবার (১৮ মে) বিকালে বিষয়টি নিয়ে বাংলার ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা হয় ‘কুলি’ নায়কের। তিনি বলেন, ‘ফারুক ভাই আমাদের ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম বড় তারকা। তার সঙ্গে কাউকে তুলনা করা যায় না। তারপরও তিনি যেহেতু চলে গেলেন, ওই আসনটিও খালি হয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেরও বেশি সময় বাকি নেই। আমি মনে করি এবারের মেয়াদে হাতে যে সময়টুকু আছে সে সময়টুকুর জন্য ফারুক ভাইয়ের আসন থেকে চলচ্চিত্রের কাউকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক। তাহলে চলচ্চিত্রের মানুষ হিসেবে আমাদের ভালো লাগবে। সেই জায়গা থেকেই ফেরদৌসের কথা বলছি।’
ফেরদৌসের নাম বলার পেছনে কিছু যুক্তিও দেখিয়েছেন ওমর সানী, ‘ফেরদৌস অনেক দিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সবচেয়ে বড় কথা শিক্ষিত, মার্জিত, উপযুক্ত। তার শ্বশুরও দুই-তিনবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আওয়ামী লীগের গত নির্বাচনেও ফেরদৌস খুব অ্যাকটিভ থেকে কাজ করেছে। সব মিলিয়ে আমি মনে করি সে মনোনয়ন পাবার যোগ্য।’
তবে একই আসনে আরেক অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমানের মনোনয়ন চেয়ে পোস্টারিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের মার্চ থেকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন নায়ক ফারুক। গেলো বছরের শেষ দিকে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন, কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হয়ে আর ফিরতে পারেননি দেশে। মঙ্গলবার (১৬ মে) দিনভর শহীদ মিনার, এফডিসি, চ্যানেল আই, গুলশানের বিভিন্ন স্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন ও জানাজা শেষে রাতে গাজীপুরের কালীগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে তাকে।









