ফিল্ম আর্কাইভে সংরক্ষিত হবে মিশুক মুনীরের ব্যবহৃত সামগ্রী

দেশের মিডিয়া অঙ্গনের কালজয়ী এক নাম মিশুক মুনীর। সাংবাদিকতা ও সিনেমাটোগ্রাফিতে যিনি নিজের সাক্ষর রেখে গেছেন। এই গুণী ব্যক্তির ব্যবহৃত সামগ্রী ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবার সংরক্ষিত হবে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে।

সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) আর্কাইভের মহাপরিচালক মো. জসীম উদ্দিনের কাছে মিশুক মুনীরের জিনিসপত্র হস্তান্তর করেন তার স্ত্রী মঞ্জুলী মুনীর। এর মধ্যে রয়েছে মুনীরের ব্যবহৃত ক্যামেরা, বিভিন্ন ধরনের লেন্স, ফ্ল্যাশগান, ওহম মিটার, স্লাইড, ফটো অ্যালবাম, ক্যামেরার ম্যাগনেটিক, মিনি ক্যামেরা, ছোট ব্যাটারি চালিত লাইট, পাসপোর্ট, আইডি কার্ড, দুর্লভ পকেট ঘড়ি, হাত ঘড়ি, নেগেটিভ রাখার কাঁচের জার ইত্যাদি।

হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফিল্ম আর্কাইভের পরিচালক ফারহানা রহমান, উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আরিফ সাদেক, ফিল্ম অফিসার মো. ফখরুল আলম সোহাগ ও ফিল্ম ইনভেস্টিগেটর আবুল কাউসার মো. আল আমিন।

হস্তান্তরের সময় ক্যামেরাবন্দি সংশ্লিষ্টরা

স্বামীর ব্যবহৃত জিনিসপত্র স্থায়ী সংরক্ষণের বন্দোবস্ত করতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মঞ্জুলী মুনীর। এর মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্ম মিশুক মুনীরের কর্ম ও জীবন সম্পর্কে জানতে পারবে বলেও আশাবাদী তিনি।

উল্লেখ্য, শহীদ বুদ্ধিজীবী ও কালজয়ী নাট্যকার মুনীর চৌধুরীর ছেলে মিশুক মুনীর। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে একই বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষকতা শুরু করেন। এরপর ১৯৯৮ সালে সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলোতে কাজ করেছেন তিনি। এছাড়া কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন মুনীর।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি প্রামাণ্যচিত্র, তথ্যচিত্র ও চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মিশুক মুনীর। তারেক মাসুদ নির্মিত চলচ্চিত্র ‘রানওয়ে’সহ ‘রির্টান টু কান্দাহার’, ‘ওয়ার্ডস অব ফ্রিডম’ প্রামাণ্যচিত্রগুলোতে কাজ করেছিলেন তিনি।

২০১১ সালের ১৩ আগস্ট তারেক মাসুদের পরিচালনায় নতুন ‘কাগজের ফুল’ চলচ্চিত্রের শুটিং লোকেশন দেখতে গিয়ে মানিকগঞ্জের ঘিওরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তারা দুজনই মারা যান।