বাংলাদেশ একটা সময় পাকিস্তানের অংশ ছিল। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাঙালিদের সঙ্গে নানা বৈষম্য করেছিল পাক সরকার। সেই সঙ্গে শোষণ, নির্যাতন তো ছিলই। এই শোষণের শিকল ভেঙে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলাদেশ। পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে গঠিত হয়।
নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে বাংলাদেশ এগিয়েছে বহুদূর। কিন্তু পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এখনও পিছু ছাড়েনি। তাই দেশটির সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজন, অনেকের মুখেই বাংলাদেশ নিয়ে আক্ষেপের বাণী শোনা যায়।
তেমনই একজন আনোয়ার মাকসুদ। যিনি পাকিস্তানের কিংবদন্তি চিত্রনাট্যকার ও উপস্থাপক। তার সৃষ্ট ও সঞ্চালিত ‘লুজ টক’ অনুষ্ঠান উপমহাদেশজুড়ে জনপ্রিয় ছিল। ৭১-এর যুদ্ধের সময় ৩২ বছরের যুবক ছিলেন তিনি। নিজের চোখেই সব দেখেছেন।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আনোয়ার মাকসুদ বলেন, ‘আমি এখনও কাঁদি। নিয়মিত বাংলা গান শুনি। বাঙালি চিত্রশিল্পীদের চিত্রকর্ম আছে আমার কাছে। পাকিস্তানের সবচেয়ে ভালো অংশটা (বাংলাদেশ) আমরা হারিয়ে ফেলেছি।’
নন্দিত এই ব্যক্তি আরও বললেন, ‘দেশটা ভাগ হয়ে গেছে। ওই অর্ধেক অংশকে অনেক মানুষ ভুলেও গেছে। এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা তো জানেও না ওটাও পাকিস্তানের অংশ ছিল। বাংলাদেশের মানুষের ভোটের সুবাদে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল। যদি তাদের ভোট না থাকতো, তাহলে পাকিস্তানের জন্মই হতো না। কিন্তু এরপর আমরা তাদের সঙ্গে কী করেছি!’
উল্লেখ্য, আনোয়ার মাকসুদের সফলতম অনুষ্ঠান ‘লুজ টক’-এ তার সঙ্গে পারফর্ম করতেন অভিনেতা মইন আখতার। নানা হাস্যরসে তারা বিভিন্ন অসঙ্গতির কথা তুলে ধরতেন। এছাড়াও আনোয়ার মাকসুদের লেখায় তৈরি হয়েছে ‘সিতারা অউর মেহরুননিসা’, ‘নাদান নাদিয়া’, ‘কলোনি ৫২’সহ বেশ কিছু ধারাবাহিক নাটক।
পডকাস্ট: