চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে সংস্কৃতিকর্মীরা আগেও নানা ভাগে রাজপথে দাঁড়িয়েছেন। যদিও সেটা আটকে ছিলো অভিনয় অঙ্গনে। এবার সেটি বব মার্লের বিখ্যাত গানের লাইন ‘গেট আপ স্ট্যান্ড আপ’ ধরে বিস্ফোরিত হলো সংগীতাঙ্গনে।
বিস্ফোরণ এই জন্য বলা, সম্ভবত এটাই হতে যাচ্ছে চলমান আন্দোলনে সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় জমায়েত। ঘোষণা অনুযায়ী, আজ (৩ আগস্ট) রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবরে এক হচ্ছেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সাত ব্যান্ডের সদস্যরা। যা এরমধ্যে দলগুলোর নিজ নিজ ফেসবুক পেজে ঘোষণা এসেছে। একই ঘোষণায় সংহতি জানিয়েছেন, সংগীতাঙ্গনের উল্লেখযোগ্য সিংহভাগ কণ্ঠশিল্পী-সুরকার-গীতিকবি-যন্ত্রী।
সংগীতশিল্পী মানেই যেন গান! সেই প্রবাদের সূত্র ধরে অনেকেই ধরে নিয়েছে সাত ব্যান্ডের জমায়েতে এদিন রবীন্দ্র সরোবরে হবে বড়সড় এক রক কনসার্ট। হতে পারে সেটা প্রতিবাদের গানে গানে। কিন্তু তেমন কিছুর সত্যতা মেলেনি।
এই জমায়েতের সঙ্গে সংহতি জানানো সুরকার-গীতিকবি প্রিন্স মাহমুদ বলেন, ‘কাল (৩ আগস্ট) কোনও কনসার্ট হবে না। এখন কনসার্টের সময় না। আমরা শুধু শান্তিপূর্ণভাবে ছাত্রদের সাথে সংহতি জানাবো।’
কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া দেশজুড়ে সহিংসতার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে আর্টসেল, শিরোনামহীন, জলের গান, ওয়ারফেজ, মাইলস, চিরকুট ও অ্যাশেজ। ২ আগস্ট বিকাল ৩টা থেকে শুরু হওয়া এই ঘোষণার সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছে সংগীতের সঙ্গে যুক্ত সকল শাখার অসংখ্যজন। যেখানে রক ছাড়িয়ে ফোক হয়ে রবীন্দ্র-নজরুলেও পৌঁছেছে।
গানে গানে আমরা শিল্পীরা সংহতি প্রকাশ করবো। পোস্টারে লেখা এই লাইন সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যে কোনও আন্দোলনেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে গান চলে আসে। দলবদ্ধহয়ে বিপ্লবের গান কণ্ঠে উঠে আসে। যেহেতু আয়োজনটি সংগীতশিল্পীদের, সেহেতু সেখানেও গান চলে আসতে পারে। তবে সেটি কোনও আনুষ্ঠানিক কনসার্টে রূপ নেবে না।
বলা দরকার, ১ জুলাই থেকে কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রায় দুই শতাধিক। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ৯ দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন। সংগীতশিল্পীরা ছাড়াও তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে সমাজের নানা স্তরের মানুষ ও সংগঠন।