পরীমণি কাঁদতে জন্মাননি। কারণ তিনি জন্ম থেকেই যোদ্ধা, প্রেমিক ও আনন্দে ভেসে থাকা এক অপরূপ। ফলে তাকে ঘিরে অসংখ্য গল্প বা ঘটনা রচিত হলেও, কান্নার লেশটুকু মেলেনি সে অর্থে। সরল ভাষায়, তিনি জীবনকে বরাবরই গুছিয়ে রাখেন কারণে অকারণে আনন্দের উপলক্ষ তৈরির লক্ষ্যে।
শনিবার (২৩ নভেম্বর) সকাল নাগাদ মিডিয়াজুড়ে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর ঘুরে বেড়াচ্ছিলো। সঙ্গে পুরনো বেশ কটি ছবি। খবরটি এমন, সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন চিত্রনায়িকা পরীমণির প্রথম স্বামী ইসমাইল হোসেন জমাদ্দার (৪২)। শুক্রবার (২২ নভেম্বর) ভোরে ঢাকা-ভাঙ্গা মহাসড়কের শিবচরের পাচ্চর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইসমাইল জমাদ্দার পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নের ছোট শৌলা গ্রামের মানুষ।
অভিনেত্রী এখন (২৩ নভেম্বর) পিরোজপুরে অবস্থান করছেন তার পুত্র ও কন্যাকে নিয়ে। উঠেছেন নানাবাড়ি। এদিন দুপুরে একটি ভিডিও পোস্ট করেন নিজের মুঠোফোনে ধারণ করা। যেখানে দেখা যাচ্ছে পরীকন্যাকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন তার ভাই। তাদের সামনে তৈরি হচ্ছে রান্নার মাংস। ক্যাপশনে পরী লিখেছেন, ‘আমার মেয়ে প্রথমবার তার মামা বাড়ি এসেছে! মামা বাড়ি মধুর হাঁড়ি।’
পরীকে এই প্রতিবেদকের টেক্সট ম্যাসেজ, ‘ইসমাইল হোসেনের খবরটা কষ্টদায়ক।’
ম্যাসেজটি আনসিন হতে পারতো। ম্যাসেজটি সিন হয়েও প্রতিক্রিয়াহীন থাকতে পারতো। ম্যাসেজটি পড়ে অবাক চিহ্ন কিংবা অ্যাংরি ইমো কিংবা প্রশ্নবোধক রিপ্লাই আসতে পারতো। মানে না বোঝার বার ইসমাইলকে না চেনার অভিনয়। কিংবা ম্যাসেজটি পেয়ে সরাসরি রিঅ্যাক্টও আসতে পারতো। কারণ, পরী কাউকে হিসেব কষে চলতে পছন্দ করেন না। ফলে ‘ইসমাইল হোসেনের খবরটা কষ্টদায়ক’ লাইনটি পড়ে আরও অনেক কিছুই হতে পারতো পরীর পক্ষ থেকে।
একটু পরই অবশ্য পরিস্থিতি বদলে দিলেন, পিরোজপুরে নানাবাড়িতে আনন্দময় সময়ের ভিডিও পাঠিয়ে। যেখানে দেখা যাচ্ছে খোলা উঠোনে বসে মাটির চুলোয় বড় পাতিলে রান্না চাপাচ্ছেন পরী। তবে কি পরী বিষণ্ণ নন? তবে ইসমাইলের খবরে পিরোজপুরের মাটিয়ে ছুটে যাননি পরী?
না। এটাই সম্ভবত কাকতাল অথবা মিরাকল বলে মানুষ।
পিরোজপুর থেকে পরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কাল (২৪ নভেম্বর) আমার নানুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। মিলাদের আয়োজন করেছি।’
গ্ল্যামার দুনিয়ায় পা ফেলার পর পরী সম্ভবত একবারই কেঁদেছিলেন মনভরে, সেটি তার নানাকে হারিয়ে। যদিও মৃত্যুর একবছরের শেষ দিনে পা রেখে সেই অস্থিরতা আর নেই। কারণ, তিনি এখন দুই সন্তানের নির্ভরযোগ্য সিঙ্গেল মাদার। ফলে গ্রামের বাড়ি গিয়েই খোঁজ নিলেন মাটির চুলার! দুই সন্তানের মা হয়েও পরী যেন ফিরে গেলেন তারুণ্যের চড়ুইভাতিতে।
যে পিকনিক, বুকপকেটে জমানো খুচরো পয়সাগুলো হুটকরে পুকুরে তলিয়ে যাওয়ার বেদনা ভোলায়। শেখায় বাঁচতে, নতুন সুন্দরে।