মক্কা থেকে ফিরেই মেলবোর্নের পথে ডাক পেলেন ভাবনা

সম্প্রতি পরিবারের সঙ্গে ওমরাহ পালন করে দেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। মক্কা থেকে ফেরার পরই এলো তার অভিনীত ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ নিয়ে আন্তর্জাতিক সুখবর। আসিফ ইসলাম পরিচালিত চলচ্চিত্রটি নির্বাচিত হয়েছে ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্নের ‘ফ্রম দ্য সাবকন্টিনেন্ট’ বিভাগে।

আগামী ১৩ থেকে ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্নের এবারের আসর। এই উৎসবের মাধ্যমে ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’-এর অস্ট্রেলিয়া প্রিমিয়ার হতে যাচ্ছে।

একই বিভাগে বাংলাদেশের আরও তিনটি চলচ্চিত্র—‘রইদ’, ‘তিলোপী’ ও ‘সেনসিটি’—নির্বাচিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নির্মাতা আসিফ ইসলাম বলেন, ‘আজ সকালে খবর পেলাম, ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্নে আমাদের ফিল্ম ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ নির্বাচিত হয়েছে। ‘ফ্রম দ্য সাবকন্টিনেন্ট’ বিভাগে ছবিটি দেখানো হবে। বিষয়টি নিয়ে আমি খুবই উচ্ছ্বসিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু আমাদের সিনেমা নয়, বাংলাদেশের আরও তিনটি সিনেমা—‘রইদ’, ‘তিলোপী’ ও ‘সেনসিটি’—একই বিভাগে রয়েছে। তাই আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমা নির্বাচিত হওয়াকে শিল্পীদের জন্য বড় অর্জন বলে মনে করেন ভাবনা। তিনি বলেন, ‘যে কোনো জায়গায় সিনেমা যখন নির্বাচিত হয়, তখন শিল্পী হিসেবে খুব ভালো লাগে। যে কোনো শিল্পীর জন্যই এটি দারুণ ব্যাপার। শিল্পীরা কাজ করেন, নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারলে সেটি অনেক বড় পাওয়া। আমি এ অর্জনে অনেক বেশি উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত হয়েছি।’

মেলবোর্নের উৎসবে আমন্ত্রণ পেয়েছেন নির্মাতা আসিফ ইসলাম ও অভিনেত্রী ভাবনা। তবে আসিফ ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি উৎসবে যেতে না পারলেও ভাবনা সেখানে অংশ নিতে পারেন।

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী যাত্রাশিল্পের ক্রমাবনতি ও পরিবর্তিত বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’। এতে ‘প্রিন্সেস রোজি’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ভাবনা। চরিত্রটির জন্য নিজেকে ভিন্নভাবে প্রস্তুত করেছেন এই অভিনেত্রী। প্রায় ৯ কেজি ওজনও বাড়িয়েছিলেন তিনি।

চলচ্চিত্রটির গল্পের ভাবনা নির্মাতা আসিফ ইসলামের শৈশবের অভিজ্ঞতা থেকে এসেছে। ২০১৮ সালে ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ যাত্রাপালা দেখতে গিয়ে দর্শকদের চাহিদায় পালার মূল অভিনেতার বদলে এক নৃত্যশিল্পীর মঞ্চের কেন্দ্র দখলের ঘটনা দেখেছিলেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই চলচ্চিত্রটির গল্পের বীজ তৈরি হয়।

আসিফ ইসলাম জানান, বাংলাদেশের দর্শকদের জন্যও শিগগিরই সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা চলছে। তবে এখনো মুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতে বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ নিয়ে যেতে চান নির্মাতা।

এর আগে ৪৮তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আর্টকোর বিভাগেও নির্বাচিত হয়েছিল চলচ্চিত্রটি।