‘মৃণালদার সমস্ত মজা, পাগলামি রেখেই ছবিটা করেছিলাম’

মৃণাল সেনের জন্মশতবর্ষে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তৈরি করেছিলেন ‘চালচিত্র এখন’। কিংবদন্তি নির্মাতাকে নিয়ে অঞ্জন দত্তের তৈরি ছবিটি এবার ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা বাংলা ছবির সম্মান পেয়েছে। নিজের অর্থে তৈরি সেই ছবির এমন স্বীকৃতিতে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত অঞ্জন।

‘চালচিত্র এখন’ মূলত ওটিটি দর্শকদের কথা মাথায় রেখে তৈরি হলেও প্রেক্ষাগৃহেও মুক্তি পেয়েছিল। তবে হলের সংখ্যা ছিল কম। পরে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ছবিটি ব্যাপক দর্শকের কাছে পৌঁছে যায়। পাশাপাশি কলকাতা, ঢাকা, প্যারিস, মাদ্রিদসহ বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয় এবং একাধিক পুরস্কার অর্জন করে।

জাতীয় পুরস্কার জয়ের পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে অঞ্জন বলেন, “অনেক খেটে আমরা ছবিটা করেছিলাম। জাতীয় পুরস্কার আমাদের দেশে অনেক বড় সম্মান। খুব ভালো লাগছে।”

অঞ্জন ও তাঁর ছেলে নীল দত্ত নিজেদের অর্থে ছবিটি প্রযোজনা করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গে অভিনেতা-পরিচালক বলেন, “সেটাই সবচেয়ে বড় পাওনা। মৃণালদা থাকলে খুব মজা পেতেন। নিজেদের টাকায় বানানো ছবি।”

২০১১ সালে ‘রঞ্জনা আমি আর আসব না’ ছবির জন্য তিনটি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন অঞ্জন দত্ত। ১৫ বছর পর ফের জাতীয় পুরস্কার তাঁর হাতে। এই স্বীকৃতি তাঁকে নিজের মতো করে ছবি তৈরির সাহস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে জানান তিনি।

“আবার নতুন প্রোডাকশনের সাহস তো নিশ্চয়ই দিল। নিজের মতো করে ছবি করার জন্য আবার সাহস দিল এই পুরস্কার। পরিশ্রমটা সার্থক মনে হচ্ছে”—বলেন অঞ্জন।

তবে ছবিটি নিয়ে তাঁর একটি আক্ষেপও রয়েছে। অঞ্জনের ইচ্ছা, জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পর ‘চালচিত্র এখন’ যদি আবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেত! যাঁরা এখনও ছবিটি দেখেননি, তাঁদের ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ছবিটি দেখার অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।

মৃণাল সেনের সঙ্গে অঞ্জন দত্তের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব। তাই ছবিতে তাঁকে শুধু গম্ভীর, রাজনৈতিক চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে তুলে ধরতে চাননি অঞ্জন। বরং নিজের চোখে দেখা মৃণাল সেনের রসিকতা, পাগলামি ও প্রাণবন্ত দিকগুলোও ছবিতে তুলে ধরেছেন।

অঞ্জনের কথায়, “মৃণালদার সমস্ত মজা, পাগলামি রেখেই ছবিটা করেছিলাম। মৃণাল সেন মানে পলিটিক্যাল ফিল্মমেকার—সেভাবে আমি করিনি। আমি একজন মজার, এক্সাইটিং, এনার্জেটিক মানুষকে যেমন দেখেছি, তেমনই তুলে আনার চেষ্টা করেছি পর্দায়।”

এদিকে বাদল সরকারকে নিয়ে অঞ্জন দত্তের পরবর্তী ছবির পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ চলছে। তাঁর ছেলে নীল দত্তের ‘বিয়ে ফিয়ে নিয়ে’ মুক্তির পর ছবিটি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।