ভারতের রাজধানী দিল্লিজুড়ে চলছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আন্দোলন। এরমধ্যে এই অন্দোলন আরও জোরালো হয়ে ওঠেছে। সোমবার দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির পর বলিউডের অনেক তারকা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানান। একইসঙ্গে তারা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন।
বলিউড অভিনেত্রী হুমা কুরেশি জানান, বিক্ষোভের দৃশ্যগুলো দীর্ঘ সময় তার মনে থাকবে। এ ছাড়া শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর এতটা ‘নির্মম বলপ্রয়োগ ও লাঠিচার্জ’ দেখে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন।
অভিনেত্রী ভূমি পেড়নেকর শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট দিয়েছেন। অভিনেত্রীর ভাষ্য ‘সহিংসতা কখনোই সমাধান হতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘দেশের দায়িত্ব হলো তরুণদের এই আন্দোলনকে সহিংসতায় রূপ নিতে না দেওয়া। একই সঙ্গে এর মূল উদ্দেশ্য যেন হারিয়ে না যায় তা নিশ্চিত করা। গণতন্ত্র সংলাপের ভিত্তিতেই গড়ে ওঠে। বিক্ষোভের সবকিছুর সঙ্গে আমি একমত নাও হতে পারি। কিন্তু আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, অর্থবহ সংলাপ থেকেই সংস্কারের সূচনা হয়। এই বিষয়টির কেন্দ্রবিন্দুতে আমাদের শিক্ষার্থীদেরই থাকতে হবে। এ ছাড়া ভারত একটি বৃহৎ ও বৈচিত্র্যময় দেশ। সব বিষয়ে নাগরিকদের মত এক নাও হতে পারে। তাই বলপ্রয়োগের আগে প্রত্যেক নাগরিকের কথা মর্যাদার সঙ্গে শোনা উচিত।’
পাঞ্জাবি অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছেন, ‘যা ঘটেছে তা দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এভাবে আচরণ করা উচিত নয়।’
‘জনগণের কণ্ঠই ঈশ্বরের কণ্ঠ’ উল্লেখ করে দোসাঞ্জ কর্তৃপক্ষের প্রতি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও দাবিগুলো শোনার আহ্বান জানান।
অভিনেতা দম্পতি রিতেশ দেশমুখ ও জেনেলিয়া ডি’সুজাও বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। তারা বিক্ষোভকারীদের কথা শোনার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই দম্পতির মতে, তারাই আমাদের গণতন্ত্রের প্রাণস্পন্দন এবং দেশের ভবিষ্যতের প্রকৃত নির্মাতা। আসুন, আমরা তাদের কথা শুনি, তাদের পাশে দাঁড়াই এবং তাদের ক্ষমতায়ন করি।
এদিকে বিক্ষোভ মিছিল শুরুর আগে প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমি এবং অভিনেতা-নির্মাতা প্রকাশ রাজ দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেন।









