ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণের নিন্দা, দ্রুত পুনঃস্থাপনের আহ্বান উদীচীর

ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে নির্মাণাধীন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ হামিদুর রহমানের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য ও চত্বর ভেঙে ফেলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সংসদ। একই সঙ্গে ভাস্কর্য ও চত্বরটি পূর্বের স্থানেই যথাযথ মর্যাদায় পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আজ (মঙ্গলবার) এক বিবৃতিতে উদীচীর কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান শুধু ঝিনাইদহের নন, তিনি সমগ্র জাতির গর্ব এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য বীর। তাঁর স্মৃতিকে ধারণকারী ভাস্কর্য ও চত্বর যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ, জনমত গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই অপসারণের উদ্যোগ অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

তাদের ভাষায়, এ ধরনের পদক্ষেপ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা এবং জাতীয় মর্যাদার প্রতি অবমাননার শামিল।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি জেলার প্রবেশমুখে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য শুধু একটি স্থাপনা নয়; এটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, দেশপ্রেম এবং আত্মত্যাগের প্রতীক। নতুন প্রজন্মের কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা তুলে ধরতে এ ধরনের স্মারক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই ভাস্কর্যটি অন্যত্র স্থানান্তরের পরিবর্তে যথাযথ নকশা, নিরাপত্তা ও নান্দনিকতা নিশ্চিত করে পূর্বের স্থানেই পুনর্নির্মাণ ও পুনঃস্থাপন করা উচিত।

উদীচীর নেতারা আরও বলেন, ২০২৪ সালের পর একাধিকবার হামলার শিকার হওয়া এই ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলার পরিবর্তে রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছিল এটি সংরক্ষণ, সংস্কার এবং যথাযথ মর্যাদায় রক্ষা করা।

তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এ বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে শহীদ পরিবারের সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ইতিহাসবিদ এবং স্থানীয় জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

একই সঙ্গে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ও চত্বরকে একই স্থানে যথাযথ মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সৌন্দর্য নিশ্চিত করে দ্রুত পুনঃস্থাপনের এবং এ বিষয়ে সব ধরনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।