বেশ কিছুদিন ধরেই সংবাদ মাধ্যমে ঘুরেফিরে আসছে বলিউড অভিনেতা হৃত্বিক রোশন আর কঙ্গনা রনৌতের তিক্ত সম্পর্কের কথা। প্রায় প্রতিদিনই দুই অভিনেতা-অভিনেত্রী একে অপরের উদ্দেশ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি করে যাচ্ছেন। কেবল তাই নয়, ঘটনা গড়িয়েছে আদালতের দরজা পর্যন্ত। দু’জনেই একে অপরকে নোটিশ পাঠিয়েছেন। এবার সেই তিক্ততা বোধহয় আরেক ধাপ জোরালো হলো।
কিছু দিন আগেই মুম্বাই পুলিশের সাইবার অপরাধ দমন শাখায় হৃত্বিক অভিযোগ করেছিলেন, তার নামে কেউ ভুয়া ই-মেল অ্যাকাউন্ট খুলে কঙ্গনাকে মেল করেছেন। এতে কঙ্গনা প্রশ্ন তোলেন, গত দু’বছর ধরে এই বিষয়ে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি কেন? তদন্তে পুলিশের গাফিলতির অভিযোগও তোলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তখন হৃত্বিকের আইনজীবী জানান, সত্যি-মিথ্যের বিচার আদালতেই হবে।
হৃত্বিকের ই-মেইলের কপি জমাদান প্রসঙ্গে পুলিশের অপরাধ দমন শাখা মুখ না খুললেও এরইমধ্যে সে ই-মেইল নিয়ে করা ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার দাবি করেছে বোম্বে টাইমস। সেই প্রতিবেদনের আলোকে হৃত্বিকের আইনজীবীদের ১০ দফা যুক্তি তুলে ধরা হলো-
১. কঙ্গনার কাছে hroshan@email.com নামের যে আইডি থেকে ই-মেইলগুলো গেছে সে আইডিটির ব্যাপারে হৃত্বিক কিছুই জানেন না। কঙ্গনার কাছে তার সত্যিকারের আইডির কথাও জানিয়েছেন তিনি।
২.বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরাও ওই আইডির সঙ্গে হৃত্বিকের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাননি।
৩. কঙ্গনা দাবি করেছেন যে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে তাকে হৃত্বিক প্রেম নিবেদন করেছেন। কিন্তু হৃত্বিক তার সে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কেননা ওই সময়ে তিনি প্যারিস ভ্রমণে ছিলেন না।
৪. এক মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও এখন পর্যন্ত কঙ্গনা তার আর হৃত্বিকের সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে কোনও ছবি হাজির করতে পারেননি। এরমধ্য দিয়ে বোঝা যায় পুরো ঘটনাটি সাজানো।
‘কৃশ-থ্রি’ ছবিতে হৃত্বিক-কঙ্গনার রোমান্টিক গান:
৫. হৃত্বিকের কাছে পাঠানো ই-মেইলে কঙ্গনা বার বার স্বীকার করেছেন তার অ্যাসপারজার’স (অটিজম ধাঁচের লক্ষণ) এর সমস্যা রয়েছে। অথচ এরপর বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা দাবি করেছেন, হৃত্বিকই তার এ লক্ষণের কথা সবার কাছে বলে বেড়াচ্ছেন।
৬. হৃত্বিকের বিরুদ্ধে কঙ্গনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করারও অভিযোগ করা হয়েছে একটি ই-মেইলে।
৭. হৃত্বিকের সত্যিকারের আইডিতে কঙ্গনার সঙ্গে চালাচালি হওয়া ই-মেইলের সংখ্যা অনেক। আর এর ভিত্তিতে কঙ্গনা তাদের মধ্যকার সম্পর্কের দাবি তুলেছেন। অথচ, হৃত্বিক কঙ্গনাকে তার ই-মেইলের উত্তর দেননি বললেই চলে।
৮. কঙ্গনার কিছু কিছু মেইলে বোঝা যায়, শুরুর দিকের সাক্ষাতে হৃত্বিক তার প্রতি আগ্রহ দেখাননি এবং আকৃষ্ট হননি।
৯. এমনকি ২০১৩ সালে ‘কৃশ-থ্রি’ ছবিটি মুক্তির পর দু’জনার তেমন যোগাযোগ খুব কমই হয়েছে যা দিয়ে বোঝা যাবে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ছিল। সত্যিকার অর্থে কঙ্গনা হৃত্বিকের কাছে এও স্বীকার করেছেন যে যখন তিনি এ অভিনেতার আশপাশে থাকেন তখন লজ্জাবোধ করেন ও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
১০. কিছু কিছু মেইল দেখলে বোঝা যায় কঙ্গনা শৈশব থেকেই হৃত্বিকের প্রতি আচ্ছন্ন ছিলেন।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
/এফইউ/এমএম/