ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্রকে ‘অকর্মণ্য’ বললেন কঙ্গনা

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির সংসদ সদস্য ও অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌত ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাসকে ‘অকর্মণ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তরুণ আন্দোলনকারীদের নিয়ে তার মন্তব্যের জবাবে সৌরভ দাসের সমালোচনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

নিজের বিভিন্ন অর্জনের কথা উল্লেখ করে কঙ্গনা বলেন, সৌরভ দাসের বর্তমান বয়স ২৮ বছর, আর ওই বয়সে তিনি দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছিলেন।

লোকসভার এই সদস্য বলেন, আমি গত দুই বছর ধরে রাজনীতিতে আছি। তবে গত ২০ বছর ধরে জনজীবনের সঙ্গে যুক্ত। তার বর্তমান বয়সে আমার দুটি জাতীয় পুরস্কার ছিল। নতুন সংসদ সদস্য হিসেবে অনেক কাজের চাপে ছিলাম। কারণ আমি একই সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার ও উদ্যোক্তা। কিন্তু তার মতো সম্পূর্ণ অকর্মণ্য ও বেকার কেউ কখনও বুঝবে না, সব সময় মানুষের চাহিদার কেন্দ্রে থাকার অর্থ কী।

বর্তমানে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক। তরুণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঙ্গনার মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়েই তার সমালোচনা করেছিলেন সৌরভ দাস। 

তিনি বলেন, তার নিজের দলের সদস্যরাও কঙ্গনা রনৌতকে খুব একটা গুরুত্ব দেন না। তাই আমরা কেন দেবো? জেন-জি, জেন-আলফা বা তরুণ প্রজন্মের কেউই তাকে গুরুত্ব দেয় বা তার কথা শোনে বলে আমি মনে করি না। তিনি এখন একজন রাজনীতিক। হিমাচল প্রদেশে নিজের নির্বাচনি এলাকায় গিয়ে তিনি বলেছিলেন, সংসদ সদস্যের কাজ খুব কম হবে ভেবেছিলেন, পরে বুঝেছেন এতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। এ থেকেই তার গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

এর জবাবে কঙ্গনা সৌরভ দাসকে ‘কোনও একটি দক্ষতা শেখা’ দিয়ে শুরু করার পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, প্রিয় সৌরভ, তোমার সমস্যাগুলো ব্যক্তিগত। তুমি ছাত্র নও। তুমি শুধু অকর্মণ্য। কোনও একটি দক্ষতা শেখা দিয়ে শুরু করো। শুরু করার জন্য এটি ভালো জায়গা।

এর আগে নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক আন্দোলনের সমালোচনা করে কঙ্গনা বলেছিলেন, বিক্ষোভে ‘অশালীন ভাষা’ ও ব্যক্তিগত আক্রমণ সমাজের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

ইনস্টাগ্রাম স্টোরিজে তিনি আন্দোলনের ভিডিওগুলোকে ‘বমি উদ্রেককারী’ বলেও মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ভাষা ও আচরণের সমালোচনা করেন।

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছিল সিজেপির নেতৃত্বাধীন শিক্ষার্থীরা। গত সপ্তাহান্তে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলে আন্দোলন স্থগিত করা হয়।

সূত্র: এনডিটিভি