৭৬তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের বাণিজ্যিক বিভাগ মার্শে দ্যু ফিল্মে প্রদর্শিত হলো বাংলাদেশ থেকে আসা ‘মা’। অরণ্য আনোয়ার পরিচালিত ছবিটি দেখে দেশি-বিদেশি আমন্ত্রিত দর্শকরা মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। ২০ মে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে পালে দে ফেস্টিভ্যাল ভবনের পালে-ই থিয়েটারে ছিল এই প্রদর্শনী।
‘মা’ ছবির কনসেপ্ট ও চিত্রগ্রহণের দারুণ প্রশংসা করেন দর্শকরা। দর্শক সারিতে বাংলাদেশি সংবাদকর্মী-অতিথি ছাড়াও ছিলেন আমেরিকান, ফরাসি, চীনা, ব্রাজিলিয়ান ও ইরানের চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। তারা প্রত্যেকে নিজেদের দেশের সিনেমার প্রচারণা করতে এবং অন্য দেশগুলোর ছবির খোঁজ নিতে কান উৎসবে এসেছেন। এর অংশ হিসেবে এদিন বিভিন্ন দেশের পেশাদার চলচ্চিত্রকর্মীরা বাংলাদেশের ছবিটি দেখেন।
পালে-ই থিয়েটারের কর্মী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি কিছু দৃশ্য দেখেছি। আমার কাছে এটি আবেগপ্রবণ ও কবিতার মতো লেগেছে। ছবিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই দারুণ কাজ করেছেন।’
আমেরিকা থেকে আসা ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘একজন দর্শক হিসেবে সামনে সারিতে বসে ছবিটি দেখেছি। আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। এককথায় অসাধারণ। একটি দেশের জন্ম দিয়ে শেষ হয়েছে ছবিটি। দেশের প্রতি ভালোবাসা, মায়ের প্রতি ভালোবাসা, সন্তানের প্রতি ভালোবাসা, মানবতার দিক সবই অনেক ভালোভাবে ফুটে উঠেছে। সবার অভিনয় অনবদ্য। আমি মনে করি, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত সেরা ছবিগুলোর একটি এটি।’
প্যারিস থেকে আসা প্রবাসী বাংলাদেশি একজন দর্শক বলেন, ‘ইউটিউবে ট্রেলার দেখে আমার কাছে মনে হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ বেশি করে ফুটে উঠবে এই ছবিতে। কিন্তু না, পুরো প্রেক্ষাপটই ভিন্ন। ছবিটি অসাধারণ লেগেছে আমার। এতে মাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এত সুন্দর একটি ছবি উপহার দেওয়ায় পরিচালক-প্রযোজককে অসংখ্য ধন্যবাদ। মায়ের চরিত্রে পরীমণির অভিনয় অসাধারণ।’
প্রবাসী আরেক দর্শকের কথায়, ‘বাংলাদেশের জন্য, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য অবশ্যই এই ছবি একটি সম্পদ। আমরা বন্ধুরা মিলে ছবিটি দেখেছি। বাংলা ভাষা না বুঝলেও বিদেশিরা গল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পেরেছেন, এটা উল্লেখযোগ্য পাওয়া।’
গতকালের প্রদর্শনী শেষে অরণ্য আনোয়ার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি খুবই খুশি। আমাদের ছবির প্রদর্শনী সফল হয়েছে। যারা এসেছেন, সবাই ছবিটির কনসেপ্ট ও নির্মাণ নিয়ে প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, মুক্তিযুদ্ধ ও মাতৃত্ব নিয়ে এমন ছবি আরও হওয়া প্রয়োজন। কান উৎসবের মার্শে দ্যু ফিল্মে যে কারণে এসেছিলাম, সবই পেয়ে গেছি।’
পরিচালক অরণ্য আনোয়ারের চোখে, ছবিটি বিশ্বজুড়ে বিপণনের জন্য এই প্রদর্শনী খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে আগামী ২৬ মে মুক্তি পাচ্ছে ‘মা’। এর কাছাকাছি সময়ে ইউরোপ-আমেরিকায় মুক্তির পরিকল্পনা কান উৎসবে এসে সাজিয়েছেন বলে জানান প্রযোজক পুলক কান্তি বড়ুয়া।
পরীমণি অভিনীত ‘মা’ ছবির গল্পে ১৯৭১ সালের পটভূমিতে মায়ের সর্বজনীন মাতৃত্ব ও একটি দেশের জন্ম সমান্তরালে ধরা দিয়েছে।
এদিকে শনিবার উৎসবের পঞ্চম দিনেও মার্শে দ্যু ফিল্মে চোখে পড়েনি বিএফডিসি কর্তাদের। ফাঁকা পড়ে আছে তাদের বরাদ্দ নেওয়া স্টল।