ছোট ছেলে নিখোঁজ, বড় ছেলে দেশের বাইরে-নাসিমা খানের দাফন কোন দিন

রবিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  ইন্তেকাল করেন অভিনেত্রী নাসিমা খান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। অভিনেত্রীর মরদেহ রাখা হয়েছে হিমঘরে।

নাসিমা খানের দুই সন্তানের একজন নাবিল নাছির রহমান কুশল নিখোঁজ আছেন কয়েক মাস ধরে। অন্যদিকে বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তিনি দেশে ফিরলেই নাসিমার দাফন হবে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সনি রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘নাসিমা খানের বড় ছেলে ১৪ তারিখে দেশে ফিরবেন। ১৫ তারিখে তার দাফন হবে। এছাড়া ছেলে দেশে ফিরলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে অভিনেত্রীর মরদেহ বিএফডিসিতে আনা হবে কি না।’

ছোট ছেলের নিখোঁজের বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের পারিবারিকভাবে জানতে পেরেছি কুশল এখনও বাসায় ফেরেননি। কুশলের বড় ছেলে এবার ক্লাস টেনে পড়ে। তিনি হারিয়ে গেছেন নাকি অপহৃত হয়েছেন পরিবার বিষয়টি নিয়ে আমাকে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।’

১৯৫৯ সালে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে নাসিমা খানের। এরপর ১৯৬১ সালে ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এ সিনেমার মাধ্যমে দর্শক মহলে পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এই অভিনেত্রী।

ষাটের দশক থেকে আশির দশক পর্যন্ত বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করে নিজের অবস্থান তৈরি করেন নাসিমা খান। সে সময়ের চলচ্চিত্রাঙ্গনে তিনি ছিলেন পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ।

দীর্ঘ বিরতির পর ২০১১ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ চলচ্চিত্রে সর্বশেষ তাকে পর্দায় দেখা যায়।

১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্ম নাসিমা খানের। তার পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে। তার বাবা মোহাম্মদ মাসুদ খান ছিলেন ব্যবসায়ী।